আগস্ট ৭, ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং হাসপাতালে আহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালের দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মধ্যে এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।দুর্ঘটনার তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের যাত্রী কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরীনা লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম এবং একই এলাকার সাফি মিয়া ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর বিক্রমপুরের জাইফা ইসলাম এবং সিলেট নগরের সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের পুত্র সপ্তম রায় প্রীতমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
সর্বশেষ আরও একজনের মৃত্যু হলে সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে নয়জনে পৌঁছেছে।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নূরুন নাহার, মো. মফিজ মিয়া, ফারুক মিয়া, মুক্তার, জাহাঙ্গীর, আফরুজা, আফজাল ও বাবুলসহ আরও বেশ কয়েকজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার অপু মিয়া জানান যে খবর পাওয়া মাত্রই তাদের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মোস্তফা জানান যে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ প্রচেষ্টায় মহাসড়কে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটিকে ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন