শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে হাসপাতালে ৩৭ জন, তদন্তে আইইডিসিআর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

অ্যানথ্রাক্স উপসর্গে হাসপাতালে ৩৭ জন, তদন্তে আইইডিসিআর

ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী জবাইয়ের পর মাংস কাটার সঙ্গে যুক্ত অন্তত ৩৭ জন মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর ছয় সদস্যের বিশেষ দল। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার এক শিশুসহ দুজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারাপুর ইউনিয়নের নিজামখা গ্রামের ৩৫ বছর বয়সী এক নারী এবং সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছোয়াহাটি গ্রামের চার বছর বয়সী এক শিশু। ওই নারীর ডান হাতের আঙুল ফুলে ফোসকা পড়েছে; তার পরিবার অসুস্থ গরুটির মাংস কিনে রান্না করে খেয়েছিল। অন্যদিকে আক্রান্ত শিশুটির দাদা জানান, তিন দিন আগে শিশুটির বাঁ চোখে প্রদাহ ও ফোলা দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন।

পরিস্থিতি মূল্যায়নে আইইডিসিআরের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি দল বৃহস্পতিবার সুন্দরগঞ্জে পৌঁছেছে। তদন্ত দলের অন্য সদস্যরা হলেন ডা. কাজী তাহমিনা করিম, ডা. মেরী হাপাং, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মিনহাজ মিয়া, মেডিকেল অ্যানথ্রোপলজিস্ট ড. আব্দুল খালেক মো. দৌলত খান এবং ল্যাব সহকারী মো. তরিকুল ইসলাম। আইইডিসিআরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকীর ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তদন্ত দলকে কর্মস্থলে ফেরার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন বাছোয়াহাটি কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকায় দলটি জনসচেতনতামূলক ক্যাম্প পরিচালনা করে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে উপজেলায় ২০ হাজারের বেশি গরুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান জানান, অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের মোট ৩৭ জনকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে শিয়ালের কামড়ে আহত নারী-শিশুসহ নয়জনকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে তাদের কারও শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ মেলেনি। অন্যদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জোবাইদুল কবীর জানান, গত কয়েক দিনে প্রায় ২০ হাজার গরুকে অ্যানথ্রাক্সের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং শুক্রবার আরও ৭৫০টি গরুকে টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। 

কোনো অঞ্চলে জীবাণুঘটিত রোগের আকস্মিক বিস্তার ঘটলে তাকে আউটব্রেক ডিজিজ বলা হয় এবং বর্তমান পরিস্থিতি সে ধরনের হওয়ায় বিশেষ দল কাজ করছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর পূর্ব বাছোয়াহাটি গ্রামে মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির অসুস্থ ফ্রিজিয়ান গাভী জবাই করার পর বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ মাংস কাটায় অংশ নেন। কয়েক দিন পর প্রথমে চারজনের শরীরে ফোসকা উঠলে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান এবং পরবর্তীতে আরও মানুষের মধ্যে একই উপসর্গ ছড়ায়। 

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের একটি উচ্চপর্যায়ের দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নমুনা সংগ্রহ করেছিল। সুন্দরগঞ্জে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব এবারই প্রথম নয়; গত ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামে অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটার পর ১১ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে ৫ অক্টোবর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪৫ বছর বয়সী এক নারী মারা যান।