সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
নরসিংদী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি দেশীয় মদের দোকানে বিনামূল্যে মদ না পেয়ে কর্মচারীকে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। চুরি, ছিনতাই ও হত্যার মতো অপরাধের কারণ দেখিয়ে শহরের ওই মদের দোকানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো দাবি উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার সন্ধ্যায় দোকানটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
জেলা যুবদলের সভাপতি ও জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে এই তালা লাগিয়ে দেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে শহরের বাজির মোড় এলাকার ওই মদের দোকানে বিনামূল্যে দশ লিটার মদ দাবি করেন এক স্থানীয় হোটেল মালিকের ছেলে ও তার কয়েকজন সহযোগী। কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা দোকানের কাউন্টার কর্মী তানভীর আহমেদ রাব্বির (৩০) শরীরে সরাসরি পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মারা যান রাব্বি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত যুবকের মা বাদি হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার প্রধান অভিযুক্তসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবহুল এই এলাকায় মদের দোকান চালু থাকায় শহরের আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতি ঘটেছে এবং যুবসমাজ নিয়মিত অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ১৯৯৯ সালের ৭ মে এই একই মদের দোকানে বিষাক্ত মিথানলযুক্ত অ্যালকোহল সেবনের পর গণ-বিষক্রিয়ায় নরসিংদী ও ঢাকায় মিলে অন্তত ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং অনেকেই স্থায়ী অন্ধত্ববরণ করেছিলেন। শত শত মানুষের প্রাণহানির সেই ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পরও কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার কাছে এই দোকানটি পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে জনমনে গভীর ক্ষোভ রয়েছে। অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় মাসোহারা ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমেই ঝুঁকিপূর্ণ এই দোকানটি এতদিন টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ জানান, নরসিংদী সরকারি কলেজসহ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এমন উন্মুক্ত মাদকের কারবার তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার এই বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে শহর থেকে অবিলম্বে দোকানটি স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মদের দোকানের মালিক রুবেল মিয়া এবং ব্যবস্থাপক হাসেম মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, মদের দোকানকে ঘিরে চুরি, ছিনতাই বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটলে পুলিশ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সরকারি লাইসেন্স অন্য একটি দপ্তর থেকে অনুমোদিত হওয়ায় এটি অপসারণ বা বাতিলের মূল এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন