সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৪:৫১ পিএম
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৩৫ হাজার ২৭৪ জন। একসময় পদ্মা-মেঘনার বুকজুড়ে ইলিশ ধরা পড়লেও এখন তা কেবলই স্মৃতি।উৎপাদন হ্রাস: তিন বছর আগে জেলায় ইলিশের উৎপাদন ছিল ৪ হাজার ৫২৮ টন। তিন বছরের ব্যবধানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১ টনে।
সংকটের কারণ: মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দখল, দূষণ এবং নদীতে ডুবোচর জেগে ওঠায় দিন দিন ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।বিখ্যাত বাজারগুলোর অবস্থা: গোসাইরহাটের কুচাইপট্টি, ভেদরগঞ্জের সখিপুর, নড়িয়ার সুরেশ্বর এবং জাজিরার পালেরচর বাজারের মতো বিখ্যাত ইলিশ বিক্রির স্থানগুলোতে এখন ইলিশ মিলছে না।
জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা না পড়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
-
জেলের হতাশা: জেলে পরিমল দাস বলেন, ১২ ঘণ্টা নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ হাতে আসছে না, যা পাওয়া যায় তা দিয়ে নৌকার খরচও ওঠে না, সংসার চালানো তো দূরের কথা। আরেক জেলে আবুল কাশেম মিয়া ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়েছেন এবং সরকারের কাছে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছেন।
-
দামবৃদ্ধি: পর্যাপ্ত ইলিশ না থাকায় বাজারে দাম অনেক চড়া। বর্তমানে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত। আধা কেজি সাইজের ইলিশের দাম ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা। চড়া দামের কারণে সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আড়তদার বাদশা সরদার অভিযোগ করেন, অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ায় মাছের উৎপাদন কমছে। তিনি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণকে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "এসব সমস্যা সমাধানে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করব। তাছাড়া জেলেদের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।"


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন