রবিউল এহ্সান রিপন
নভেম্বর ৪, ২০২৫, ০৩:০৫ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
রেলওয়েতে নিয়ম-কানুন, সময়সূচি সবই যেন সাধারণ যাত্রীদের জন্য! কিন্তু রেলের কর্তাব্যক্তিদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে সেই নিয়মনীতি কতটা ঠুনকো, তার প্রমাণ মিলল সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও রোড রেল স্টেশনে।পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা পার্বতীপুরগামী একটি ট্রেন যাত্রীদের নিয়ে রীতিমতো উল্টো পথে ছুটল প্রায় ৬ কিলোমিটার! জানা যায়, ট্রেনের যাত্রীদের গন্তব্যের চেয়েও বেশি জরুরি ছিল রেলের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু এত কাণ্ডের পরও যখন কর্মকর্তারা 'লোকাল' ট্রেনে চড়তে অস্বীকার করলেন, তখন সাধারণ যাত্রীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে।
ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা আলম লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের (ডিআরএম) দায়িত্বে আছেন।প্রতিদিনের মতো ট্রেনটি যাত্রী নিয়ে পার্বতীপুরের দিকে যাচ্ছিল। ঠাকুরগাঁও রোড রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রী তুলে ট্রেনটি যখন শিবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছেছে, তখনই বাঁধে বিপত্তি। ট্রেনচালক জানতে পারেন, রেলওয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ওই ট্রেনেই ফিরবেন এবং তারা অপেক্ষা করছেন ঠাকুরগাঁও রোড রেলওয়ে স্টেশনে।
কর্তাদের নির্দেশ মেনে শিবগঞ্জ থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ উল্টো দিকে যেতে হয় ট্রেনটিকে। গন্তব্যের দিকে যাওয়া ট্রেনটি হঠাৎই পেছনের দিকে ছুটতে শুরু করায় শত শত যাত্রী প্রথমে অবাক হন, পরে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়। অনেকের সময় নষ্ট হয় এবং অনেকেরই গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ছিল সময়মতো।কর্তাদের জন্য ৬ কিলোমিটার উল্টো পথে ছুটে অবশেষে ট্রেনটি যখন ঠাকুরগাঁও রোড রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে এল, তখন দেখা গেল আরেক দৃশ্য।
কর্মকর্তারা যখন জানতে পারলেন, এটি একটি লোকাল ট্রেন, তখন তারা সেই ট্রেনে চড়তে আপত্তি জানালেন!ট্রেনের যাত্রী রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে ট্রেন উল্টো পথে আনা হলো। আর এখন তাঁরা 'লোকাল ট্রেন' বলে চড়বেন না! এটা কেমন কথা? খোদ রেলের বড় কর্মকর্তা হয়েও তাঁরা জানেন না যে এটা লোকাল ট্রেন ছিল? আমাদের সময় নষ্ট, ভোগান্তি—সব কি বৃথা?"কর্মকর্তাদের এমন আচরণে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। এই পুরো ঘটনায় রেল বিভাগের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
যাত্রীদের অভিযোগ, রেলওয়েতে সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সুবিধা ও খেয়ালখুশির দামই বেশি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও সহকারী স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, "আমাদের ডিভিশনাল কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁওয়ে ছিলেন। কন্ট্রোল রুমের নির্দেশে ট্রেনটিকে শিবগঞ্জ থেকে ব্যাক করানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা আগে জানতাম না। পরবর্তীতে আসার পরে জানতে পারি আমাদের কর্মকর্তারা সেই গাড়িতে করে যাননি, তারা অন্য গাড়িতে করেই গিয়েছেন।"এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।