শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
শারদীয় দুর্গাপূজা

বীরগঞ্জে ১৩ লাখ টাকায় তৈরি হচ্ছে চলন্ত প্রতিমা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:০১ এএম

বীরগঞ্জে ১৩ লাখ টাকায় তৈরি হচ্ছে চলন্ত প্রতিমা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জগদল সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দিরে ১৩ লাখ টাকারও বেশি বাজেটে চলছে জমকালো আয়োজন। এবারের পূজায় দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ‍‍`চলন্ত প্রতিমা‍‍`। উপজেলার ৫ নম্বর সুজালপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জগদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই মণ্ডপটি অবস্থিত। জেলা শহর দিনাজপুর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং বীরগঞ্জ পৌর শহর থেকে কাহারোল প্রধান সড়ক ধরে আড়াই কিলোমিটার এগোলেই এই পূজা প্রাঙ্গণে পৌঁছানো যায়। গত দেড় মাস ধরে সেখানে কাদামাটি ও সাজসজ্জার কাজ চলছে।

চিরিরবন্দর উপজেলার বাংলাবাজার থেকে আসা প্রধান কারিগর শ্রী কাঞ্চন রায় জানান, সাতজন কারিগর মিলে তারা দুই লাখ টাকা চুক্তিতে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। তিনি বলেন, এবার দুটি থিমে প্রতিমা তৈরি হচ্ছে—মা দুর্গার অসুর বধ এবং মহাকালী। আধুনিক কারুকার্যের মাধ্যমে প্রতিমার হাত, পা, কোমর ও শরীর নড়াচড়া করবে। নতুন জায়গায় কাজ করায় এবার তিনি কম মূল্যে চুক্তি করেছেন, তবে লেবার ও রঙের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণত এই থিমের কাজে দুই লাখ টাকার বেশি খরচ হয় বলে জানান তিনি। আগামী সোম বা মঙ্গলবার থেকে রঙের কাজ শুরু হবে এবং এটি শেষ হতে আরও অন্তত ১৫ দিন সময় লাগবে।

বীরগঞ্জ উপজেলায় এবার মোট ১৬৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। জগদল সর্বজনীন দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভ রায় জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ধারাবাহিকতায় এবারও বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রাথমিক বাজেট ১৩ লাখ টাকা ধরা হলেও চলমান খরচের কারণে তা আরও বাড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এলাকার সকল স্তরের মানুষের অনুদান এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের প্রণামী দিয়ে এই বিশাল ব্যয়ভার মেটানো হয়। এর পাশাপাশি সরকারি অনুদানও পূজার কাজে সহায়তা করছে।

৫০ জনের বেশি সদস্য ও উপদেষ্টা মণ্ডলীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি এই মণ্ডপটি পরিচালনা করছে। শুভ রায় আরও জানান, প্রশাসন প্রতিবছরই কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে থাকে এবং এবারও তারা পূর্ণ প্রশাসনিক সহায়তার ব্যাপারে আশাবাদী। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রঙের কাজ শেষ করে নির্ধারিত সময়ে নান্দনিক এই শিল্পকর্ম দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন কারিগরেরা।