শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

দিনাজপুরে পীর সাহেবের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ওয়ারিশদের অভিযোগ

মো: মামুনুর রশিদ

এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ১১:১৮ এএম

দিনাজপুরে পীর সাহেবের সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ওয়ারিশদের অভিযোগ

বিবাদমান পীর সাহেবের সম্পত্তি -ছবি-দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় একটি ধর্মীয় সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও উত্তেজনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষের বিরুদ্ধে ওয়ারিশদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিরিরবন্দর থানার পশ্চিম সাইতাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাফিজুল ইসলাম নিজেকে দৈতরখাঁ পীর সাহেবের বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে দাবি করেছেন। তার ভাষ্যমতে, সিএস-৩৭২ ও এসএ-৩৫৬ খতিয়ানে রেকর্ডভুক্ত এই সম্পত্তিটি তাদের পরিবার দীর্ঘকাল ধরে ভোগদখল করে আসছে এবং সেখানে বংশপরম্পরায় ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 

তবে পার্শ্ববর্তী ঘুঘুড়াতলী গ্রামের হরমুজ আলী, সফিকুল ইসলাম ও মোকারম হোসেন মুকুলসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি এই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীরা জানান, প্রতিপক্ষরা এই জায়গাকে ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে দাবি করে ওয়ারিশদের সেখান থেকে উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি গ্রামবাসী ও বৈধ ওয়ারিশদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই জমি সংক্রান্ত একটি মামলা দিনাজপুর জেলা যুগ্ম জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর আগেও ওয়ারিশদের হয়রানি করতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিবাদীরা আদালত থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন।

এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের রেশ ধরে অতীতে একটি চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনাও ঘটেছিল। ওই সময় দায়িত্বরত একজন পাহারাদারকে হত্যার অভিযোগে একটি মামলা বর্তমানে বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সংবাদমাধ্যমকে জানায়, তারা বর্তমানে চরম অনিরাপত্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এবং প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এই সংকটের সমাধান ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিবাদমান বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।