এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আত্রাই নদীর চরে আবাদ করা আগাম ধান কাটতে শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবং গত তিন-চার দিনের বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।নদীর দুই ধারের নিম্ন আয়ের মানুষগুলো চরের জমিতে ফসল ফলিয়ে জীবন যাপনের স্বপ্ন বুনেছিলেন।
এবার চরে ধানের ফলনও ভালো হয়েছিল। তবে প্রকৃতির বৈরী আচরণে সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশাখের শুরুতেই নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
কৃষকরা জানান, কয়েক দিন ধরে চলা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় অনেক ধান গাছ জমিতেই হেলে পড়েছে। চরের নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় ধান পাকার জন্য আর অপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আধপাকা অবস্থাতেই অনেকে ফসল ঘরে তুলছেন।
খানসামার চরাঞ্চলের চাষিরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুচক্রের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন তাদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে। সঠিক সময়ে ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ফলন যেমন কম হচ্ছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।উপজেলার আত্রাই নদীর চরের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন ধান কাটার ব্যস্ততা চোখে পড়ে। কেউ কাঁচি দিয়ে ধান কাটছেন, কেউ তা আঁটি বেঁধে মাথায় করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন। তবে সবার চোখেমুখেই রয়েছে দুশ্চিন্তার ছাপ।
স্থানীয়দের মতে, প্রতি বছরই নদীর চরে ধান চাষ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু এবারের অকাল বৃষ্টি আর ঘূর্ণিঝড়ের আভাস তাদের সব হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। চরের মানুষের এই স্বপ্নগুলো এখন অনেকটা মাটির সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।নদীতে পানির স্তর আরও বাড়লে চরের অবশিষ্ট ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন