শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১, ২০২৬, ০৯:০২ পিএম

উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

মেরামতের ছয় দিন পর দেশের উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) ভোর ৪টা ২২ মিনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত শেষে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। সচল হওয়ার পর এই ইউনিটটি থেকে বর্তমানে ৫৫-৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল এই ইউনিটের বয়লারের পাইপ ফেটে যাওয়ায় বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের বিভ্রাট দেখা দেয়। 

এর আগেও কয়েক দফায় যান্ত্রিক জটিলতা ও কয়লার সঙ্গে পাথর আসার কারণে বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো. মোহসীনুল ফিরোজ উৎপাদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যান্ত্রিক মেরামতকাজ সফলভাবে শেষ হওয়ার পর শুক্রবার ভোরে ইউনিটটি সচল করা হয়েছে। 

বর্তমানে এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। এছাড়া কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটের ওভারহোলিং বা বড় ধরনের মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ৩ নম্বর ইউনিটটিও উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই ইউনিটটি চালু হলে বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উৎপাদিত কয়লার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে ২০০৬ সালে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু করা হয়। শুরুতে এখানে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট থাকলেও ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি যুক্ত করা হয়। তবে কারিগরি ও নানা যান্ত্রিক জটিলতার কারণে কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল রাতে কেন্দ্রের সচল থাকা একমাত্র ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর ২৪ এপ্রিল রাতে একবার চালু করা হলেও কয়েক ঘণ্টার মাথায় পুনরায় বয়লারের টিউব ফেটে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবার ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ার মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করা হচ্ছে।