বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬,
ভেজালবিরোধী অভিযান

দিনাজপুরে নকল মশার কয়েল বিক্রির দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরবরাহকারীকে জরিমানা

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

দিনাজপুরে নকল মশার কয়েল বিক্রির দায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সরবরাহকারীকে জরিমানা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর শহরে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নাম ও মোড়ক নকল করে অনুমোদনহীন মশার কয়েল বিক্রির অপরাধে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং একজন সরবরাহকারীকে আর্থিক জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নগরীর বাহাদুর বাজার স্টেশন রোড এলাকায় নকল বাওমা মশার কয়েল বিক্রির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় ‍‍`বি সুপার শপ‍‍` নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই অভিযানে কাঞ্চন ঘাট মোড় এলাকায় অবস্থিত আব্দুল মান্নান সুপার শপ, মানিক স্টোরসহ আরও বিভিন্ন দোকানে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে সংশ্লিষ্টদের আর্থিক জরিমানা করা হয়।

এর পাশাপাশি বাজারে অবৈধভাবে চায়না বাওমা মশার কয়েল সরবরাহকারী মারুফ হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে শনাক্ত করে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের নকল ও অননুমোদিত কয়েল বাজারজাত ও বিক্রি না করার জন্য তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

দিনাজপুর জেলা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন এরশাদ আলীর নেতৃত্বে এই ঝটিকা অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বাজারে বহুল প্রচলিত ‘বাওমা’ ব্র্যান্ডের আসল মশার কয়েলের নাম ও প্যাকেটের অবিকল ক্লোন তৈরি করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী তা বিক্রি করে আসছিল। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বি সুপার শপ, আব্দুল মান্নান সুপার শপ, মানিক স্টোর এবং নকল কয়েল সরবরাহকারী ব্যক্তির কাছে নকল পণ্য মজুত ও বিক্রির প্রমাণ মেলায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন পরিমাণে আর্থিক জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসায়ীকে ভবিষ্যতে এমন জাল পণ্য বিক্রি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন বাওমা কয়েলের সহকারী ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার গোলাম মোর্শেদ।

তিনি উল্লেখ করেন, নকল বাওমা কয়েলে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর ও অননুমোদিত রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকে, যা শিশুসহ সব বয়সী মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ ধরনের অনিরাপদ কয়েল ব্যবহারের ফলে শ্বাসকষ্টসহ দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ এবং জীবনহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে ক্ষতিকর নকল পণ্যের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করাই এই তদারকির মূল লক্ষ্য বলে জানান অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা। জনস্বার্থে ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।