অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপর কলকাতার কালীঘাটে নিজ বাসভবনের অদূরে ধারালো ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজ এলাকার ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট মিলন সংঘ ক্লাবের শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্বোধন করতে বের হয়ে তিনি এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েন।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব সূত্রে জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে পাড়ার শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। তবে উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরার পথেই এক নারী অতর্কিতে তার সামনে এসে পথরোধ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী হঠাৎ তীব্র চিৎকার শুরু করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি মমতা ব্যানার্জীর পায়ের কাছে রাস্তায় শুয়ে পড়েন এবং সঙ্গে থাকা ছুরি উঁচিয়ে আঘাতের উদ্যত হন।
অভিযুক্ত নারীর নাম তন্নিষ্ঠা সাহা। তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের অধীনে চুক্তিভিত্তিক সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় তিনি চরম মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত তাকে ঘিরে ফেলে নিরস্ত্রীকরণ করেন। পরবর্তীতে তাকে কালীঘাট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার পরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ও সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দোলা সেন কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৭৩ ধারায় এজাহার নথিভুক্ত করার অনুরোধ জানান তিনি।
অভিযোগপত্রে সংসদ সদস্য দোলা সেন উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে নিজেকে সিভিক ভলান্টিয়ার পরিচয় দেওয়া তন্নিষ্ঠা সাহা নামের ওই নারী চরম আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দিকে ছুটে যান। এমনকি তিনি নিজেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর ভাগনি বলেও পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা চালান। মদ্যপ বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি হিংস্র আচরণ করেন এবং মমতা ব্যানার্জীকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের চেষ্টা চালান। অভিযোগের সপক্ষে সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্থিরচিত্র ও একাধিক ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একজন ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তির এত কাছে কীভাবে একজন সশস্ত্র ব্যক্তি পৌঁছাতে পারলেন, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি। তৃণমূল নেতাদের দাবি, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন আচরণ নাকি এর পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা দরকার।
কালীঘাট থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার নেপথ্য কারণ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন