জুন ৩, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ‘বাংলাদেশে কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন আমি জানি’—এমন রহস্যময় ও বিস্ফোরক মন্তব্যের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র কৌতূহল ও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার ধর্মতলায় এক রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দেওয়া এই বক্তব্যের পর সদ্য ক্ষমতা হারানো এই নেত্রীর ইঙ্গিত মূলত ঢাকার আলোচিত শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দিকেই বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।
তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে এই সংবেদনশীল বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত দাপ্তরিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী পরাজয়ের পর রাজনৈতিক নেতাদের দেওয়া এমন স্পর্শকাতর বক্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রায়শই গভীর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে।
মমতা ব্যানার্জীর ওই বক্তব্যে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাম জড়িয়ে থাকায় বাংলাদেশ সরকারের উচিত অনতিবிழமை দিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করা বলে মনে করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর এই উক্তি থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে ওপারে বসে এদেশের রাজনীতি ও সরকার পরিবর্তনের নাটাই হাতে রাখতে কোনো গভীর আন্তর্জাতিক খেলা চলছে। তিনি আরও যোগ করেন যে সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা থাকার পরও হাদি হত্যার মূল আসামিরা কীভাবে এত দ্রুত মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় পেল, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং বিষয়টি কোনোভাবেই সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা l স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র বা কূটনৈতিক অস্পষ্টতা দূর করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।তবে সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে ভারতের নির্বাচনের পর পরাজিত কোনো নেত্রীর বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাদি হত্যার মূল আসামিদের ভারত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে গত বছরের ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে চলতি বছরের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সফলভাবে গ্রেফতার করেছিল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন