মে ১১, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে এক দীর্ঘ পরিক্রমা শেষে মমতা ব্যানার্জী এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন ঠিক সেই বিকেলে নিজের বাসভবনে দাঁড়িয়ে মমতার দেওয়া বক্তব্য এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি সরাসরি বাম ও অতিবাম শক্তিগুলোকে তার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক মহাকাব্যিক পরিহাস হিসেবে ধরা দিয়েছে। ২০১১ সালে যে বামফ্রন্টকে হটাতে তিনি অসাধ্য সাধন করেছিলেন আজ সেই শক্তির কাছেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া প্রমাণ করে যে তিনি কতটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিপর্যয়ের পেছনে দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাবকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ পনেরো বছর ক্ষমতায় থাকার পর প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং দলের নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ মমতার ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতেও দাগ ফেলেছে।
বিরোধী নেত্রী হিসেবে তার যে লড়াকু রূপ একসময় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল প্রশাসক হিসেবে তিনি সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পায়নে স্থবিরতা এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে না পারা তাকে সাধারণ ভোটারদের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। এছাড়া দলের অভ্যন্তরে অভিষেক ব্যানার্জী ফ্যাক্টর এবং তার কর্পোরেট স্টাইলে দল পরিচালনা তৃণমূলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
এখন প্রশ্ন হলো সত্তরোর্ধ্ব এই নেত্রী কি আরও একবার শূন্য থেকে শুরু করতে পারবেন। যদিও তার ঝুলিতে এখনো ৪১ শতাংশ ভোট এবং বিপুল সংখ্যক বিধায়ক ও সংসদ সদস্য রয়েছে তবে দল ভাঙার আতঙ্ক তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে। রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানো মমতার জন্য নতুন কিছু নয় কারণ ২০০১ সালেও তিনি এমন পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপি অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে তিনি কীভাবে নিজের দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেন এবং নতুন সরকারের ভুলগুলোকে রাজপথের আন্দোলনে রূপ দিতে পারেন তার ওপর। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাস অনুযায়ী একবার ক্ষমতাচ্যুত হলে ফিরে আসা কঠিন তবে মমতা বারবার নিয়ম ভাঙার খেলায় পারদর্শী বলে অনেকেই এখনই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলতে রাজি নন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন