শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় ভরাডুবির এক মাসের মধ্যেই দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস দলে তীব্র ভাঙনের চিহ্ন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নবনির্বাচিত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনা পত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর অসংগতির গুরুতর অভিযোগ তোলায় দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কারের পর দলটির একাংশ পুরোপুরি ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছেন। 

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় প্রধান মমতা ব্যানার্জীর ডাকা এক জরুরি বৈঠকে আশি জন বিধায়কের মধ্যে মাত্র কুড়ি জনের উপস্থিতি এই চরম কোন্দলকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।দেড় দশকের একচ্ছত্র আধিপত্যের পর দলটির এমন বিপর্যয় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থাই তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক ভাঙনের পথ তৈরি করছে।

রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সংকটময় পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে তৃণমূলকে "কার্যত উঠে যাওয়া একটা পার্টি" বলে অভিহিত করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন যে তৃণমূলকে ভাঙা কখনো সম্ভব নয়। 

এরই মধ্যে দলটির অনেক শীর্ষ নেতা ও বিধায়ক ভোটে হারার পর থেকেই মমতা ব্যানার্জীর ভাইপো ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।দলটির এই অভ্যন্তরীণ ফাটল আরও চওড়া হলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নজিরবিহীন ও বড় ধরনের পটপরিবর্তন ঘটার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।

দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা জানিয়েছেন যে ১৯ মে তারিখের বৈঠকে অনুপস্থিত বিধায়কদের সই জালিয়াতি করে ব্যাকডেটে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছিল। এই সই জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তভার রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। বা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসনে মমতার শোচনীয় পরাজয়ের পর আদর্শহীন ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক এই দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে।