মার্চ ২, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
ইট-পাথরের ধূসর নগরীতে এক চিলতে সবুজের সজীবতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দিনাজপুর শহরের ঈদগাবস্তি এলাকার একটি দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান। শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাবস্তি ক্লাবের বিপরীতে গড়ে ওঠা এই বাগানটি মাত্র ১৬ মাসেই পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে। শখ থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম এখন মালিকের কাছে এক নেশায় পরিণত হয়েছে।
এই ছাদ বাগানে পা রাখলেই যে কেউ বিমোহিত হবেন, যা এখন যেন এক খুদে বোটানিক্যাল গার্ডেনে রূপ নিয়েছে। মূলত গৃহকর্তা হেলালের স্ত্রীর ঐকান্তিক অনুপ্রেরণা ও সহায়তায় গড়ে ওঠা এই বাগানে বর্তমানে ঠাঁই পেয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০০ প্রজাতির ফল, ফুল ও ঔষধি গাছ।
বাগানে প্রবেশ করলে দেখা মেলে নানা বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের। ফলের তালিকায় রয়েছে আম, জাম ও কাঁঠাল থেকে শুরু করে বিদেশি ড্রাগন ফল ও অ্যাভোকাডোর মতো গাছ। ফুলের গন্ধে বিমোহিত করতে আছে দেশি গোলাপ, জবা ও শিউলি।
এর পাশাপাশি ছাদে শোভা পাচ্ছে শোভাবর্ধক বিদেশি অর্কিড ও বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস। শুধু সৌন্দর্য নয়, দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন মেটাতে এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছও। জলবায়ু পরিবর্তনের এই বৈরী সময়ে ছাদ বাগানটি শুধু একটি পরিবারের শখ নয়, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও প্রতিবেশীরা নিয়মিত এই বাগান পরিদর্শনে আসছেন। অনেকে বাগান করার বিভিন্ন কৌশল ও চারা সংগ্রহের পরামর্শ নিচ্ছেন হেলালের কাছ থেকে।

বাগানের মালিক হেলাল জানান, শুরুতে শখের বশে কয়েকটি চারা লাগিয়েছিলেন। তবে গাছের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং স্ত্রীর সার্বক্ষণিক উৎসাহে আজ তা ৩০০ প্রজাতির এক সমৃদ্ধ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাড়ির ছাদে যদি এমন বাগান গড়ে ওঠে, তবে শহরের অসহনীয় তাপমাত্রা যেমন কমবে, তেমনি জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। নগরায়নের চাপে হারিয়ে যাওয়া সবুজকে ফিরিয়ে আনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে হেলালের এই দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন