রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সারা দেশে মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান বন্ধ ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ০৫:২৫ পিএম

সারা দেশে মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান বন্ধ ঘোষণা

সুমাশটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি আবু সাঈদ পিয়াসকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে সারা দেশে ছোট ও মাঝারি মোবাইল ফোন বিক্রির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।

আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম সময় সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমবিসিবি নেতারা কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তারা জানান, আজকের (বুধবার) মধ্যে পিয়াসকে মুক্তি না দিলে সারা দেশে কঠোর আন্দোলনে নামা হবে, এমনকি দেশ অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন তারা। প্রসঙ্গত, গতকাল মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট ব্যবসায়ী আবু সাঈদ পিয়াসকে ডিবি পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এনইআইআর নিয়ে উদ্বেগ ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ব্যবসায়ীরা আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে বিটিআরসি ঘোষিত ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বা মোবাইল ফোন নিবন্ধন প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সংগঠনের সভাপতি মো. আসলাম লিখিত বক্তব্যে জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো পূর্ব পরামর্শ ছাড়াই এনইআইআর বাস্তবায়নের ঘোষণা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর ফলে:

  • দেশের প্রায় ২৫ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

  • ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে অবিক্রিত হ্যান্ডসেট বিক্রি করা অসম্ভব, ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

  • বাজারে গুটিকয়েক প্রস্তুতকারক গোষ্ঠীর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হবে এবং স্মার্টফোনের দাম বেড়ে সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, গত ৮ বছরে নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তুতকারক গোষ্ঠী প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার শুল্ক সুবিধা পেলেও প্রতিবেশী দেশের তুলনায় তারা ২০-৩০ শতাংশ বেশি দামে ফোন বিক্রি করছে। বিটিআরসির একতরফা নীতির কারণে বিদেশফেরত প্রবাসীদের আনা ফোন এবং লাগেজ পার্টির ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বছরে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব জোগান দেয়।

ব্যবসায়ীদের দাবি, পিয়াসের মুক্তি এবং এনইআইআর নীতিমালায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।