বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

একীভূত ৫ ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৩, ২০২৬, ১১:১২ পিএম

একীভূত ৫ ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে: গভর্নর

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়া পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে মতিঝিলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। 

ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি এই আলোচনায় প্রাধান্য পায়। গভর্নর বলেন যে, একীভূতকরণের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যে পাঁচটি ব্যাংক এই একীভূতকরণের আওতায় রয়েছে সেগুলো হলো ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। 

বৈঠকে গভর্নর আশ্বস্ত করেন যে, এই ব্যাংকগুলো থেকে অতীতে যারা অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হবে। আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য যে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মো. মোস্তাকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার পূর্বসূরি আহসান এইচ মনসুরের নেওয়া ব্যাংক সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমনে যে কৌতূহল ছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে তার একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেল।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আরও জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে যাতে ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে গতিশীলতা আসে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে যারা রয়েছেন, তারা বহাল থাকবেন এবং ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কল-কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। 

কল-কারখানাগুলোর বকেয়া বিদেশি পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নীতিগত সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকসেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং ব্যাংকিং খাতের ওপর মানুষের বিশ্বাস বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন নতুন গভর্নর।