মার্চ ৪, ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ৪৫ সেন্টে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের পর সবচেয়ে বেশি।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক উৎপাদন ও পরিবহন খাতে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা তৈরি করছে।
জ্বালানি তেলের পাশাপাশি ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও আকাশচুম্বী হয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় গ্যাসের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ব বাণিজ্যে অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার ফলে ইউরোপসহ এশিয়ার শিল্পোন্নত দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।সংঘাতের প্রভাব প্রকটভাবে পড়েছে এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতেও। বুধবার লেনদেনের শুরুতেই দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৮ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই সূচক ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।
এর বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে, যার ফলে ডলার সূচক তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। ডলারের মান বাড়লেও ইউরো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মানে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। তবে অস্থির এই পরিস্থিতির মধ্যেও ভার্চুয়াল মুদ্রা বিটকয়েনের দাম সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৬৮ হাজার ৫৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা বড় ধরনের আর্থিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন