রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বড় পতনের পর এবার স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়!

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

বড় পতনের পর এবার স্বর্ণের দামে নাটকীয় মোড়!

অস্থির বিশ্ব স্বর্ণের বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতিতে নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের পরেই জ্বালানি তেলের দাম কমে যায় এবং স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যায়। 

তবে চার মাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ার পর মূল্যবান এই ধাতু পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক চার শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৪৭০.৩৬ ডলারে নেমে আসে। অথচ দিনের শুরুতে এই দর প্রায় ৮ শতাংশের বেশি কমে সেশনের সর্বনিম্ন ৪,০৯৭.৯৯ ডলারে পৌঁছেছিল যা গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে ১৯৮৩ সালের পর স্বর্ণের বাজার গত সপ্তাহে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করেছে। মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার বাজারও দুই দশমিক দুই শতাংশ কমে ৪,৪৭১.৬০ ডলারে অবস্থান করছে। 

হাই রিজ ফিউচারসের মেটালস ট্রেডিং বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার এই পরিস্থিতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী তারল্য সংকট এবং সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে দায়ী করেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একটি পোস্টের পর ধাতু, জ্বালানি এবং শেয়ার বাজারে এই নাটকীয় পরিবর্তন আসে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আপাতত বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা থেকে বিরত থাকবেন। যদিও ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আলোচনার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেনি।

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করেন। তবে ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানির দাম বাড়ায় সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকার জল্পনা তৈরি হয়েছে। উচ্চ সুদের হার স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয় কারণ এতে মূল্যবান এই ধাতু ধরে রাখার সুযোগ ব্যয় বেড়ে যায়। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ডলারের দরও কিছুটা দুর্বল হয়েছে। 

ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য ডলার-নির্ধারিত ধাতু কেনা তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে যা স্বর্ণের দামে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ কমেছে। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারির রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫,৫৯৪.৮২ ডলার থেকে বর্তমানে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ নিচে অবস্থান করছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দাম তিন দশমিক তিন শতাংশ বাড়লেও প্ল্যাটিনামের বাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে।