বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ব্যবসায়ীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হবে এফবিসিসিআই: বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রত্যাশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

ব্যবসায়ীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী হবে এফবিসিসিআই: বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রত্যাশা

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফবিসিসিআই-কে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যবসায়ীদের এই শীর্ষ সংগঠনটিকে শক্তিশালী ও গতিশীল একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখতে চায় সরকার। 

রোববার সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশের জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মনে করেন, ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া পেশাদারিত্বের সাথে উপস্থাপনে এফবিসিসিআই-এর ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। 

তিনি উল্লেখ করেন যে, সংগঠনটিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সহায়তা আদায় করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে মন্ত্রী একটি কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। 

তিনি বলেন, এফবিসিসিআই-কে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না।বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এমন একটি এফবিসিসিআই প্রত্যাশা করে যা প্রকৃত অর্থেই সকল স্তরের ব্যবসায়ীর সম্মিলিত একটি বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর মতামত প্রদান করবে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জোর দিয়ে বলেন, এই সংগঠনটিকে ফলপ্রসূ করতে হলে অত্যন্ত যোগ্য, দূরদর্শী এবং উদ্যমী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। আর সেই নেতৃত্ব অবশ্যই ব্যবসায়ী সমাজ থেকেই উঠে আসা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, দেশের নতুন আমদানি নীতি বা ইমপোর্ট পলিসি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ ছাড়া সেবা খাতকে আরও সহজ করতে বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলো ডিজিটালাইজড ও সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর আগে বৈঠকে বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং এফবিসিসিআই-এর সাবেক সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রাজেশসহ আরও অনেক জ্যেষ্ঠ পরিচালক তাদের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন। তারা এফবিসিসিআই-এর আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে একজন প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।

ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন ইতিবাচক বার্তা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতির সঞ্চার করবে। বিশেষ করে এফবিসিসিআই-কে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার যে অঙ্গীকার মন্ত্রী করেছেন, তা বাস্তবায়িত হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন। সরকার ও ব্যবসায়ীদের এই সমন্বিত উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

বাণিজ্যমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর এফবিসিসিআই-এর আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সংগঠনটি কতটা দ্রুত রাজনৈতিক লেবাস ঝেড়ে ফেলে প্রকৃত বাণিজ্যিক সত্তায় ফিরতে পারে।