এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৯৭ কোটি ডলারের কাছাকাছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই তথ্য সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১০ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলার।
গত বছরের এপ্রিল মাসের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসেবে গত বছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক গতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২০ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রবাসী আয়ে প্রণোদনার মতো সরকারি পদক্ষেপগুলো এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অত্যন্ত জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়েও রেমিট্যান্সের এই গতি ইতিবাচক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের পাঠানো এই অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করায় হুন্ডির পরিবর্তে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর হার বাড়ছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন দিনগুলোতে এই প্রবাহ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন