এপ্রিল ২১, ২০২৬, ১২:০৩ এএম
ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানির নতুন একটি চালানের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাঠানোর এই বিশেষ প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এই জ্বালানি সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত পদ্মা অয়েল পিএলসি’র রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছাবে।
আধুনিক এই পাইপলাইন ব্যবহারের ফলে ভারত থেকে জ্বালানি আমদানি এখন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে।মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আসার এই প্রক্রিয়াটি কারিগরিভাবে অত্যন্ত নিখুঁত। পাম্পিং শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণত ৬৫ ঘণ্টা সময়ের প্রয়োজন হয় পুরো চালানটি পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছাতে। সেই হিসেবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই আমদানিকৃত এই বিশাল ডিজেলের চালানটি বাংলাদেশের স্থানীয় মজুতে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের জ্বালানি তেলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করে রবিউল আলম বলেন, বর্তমানে দেশে ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই। সরকারি ও বেসরকারি মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই চালানটি খালাস হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পাইপলাইন চালুর ফলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের দীর্ঘদিনের সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে। ইতোমধ্যেই চলতি মাসে দুই দফায় মোট ১৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসে পৌঁছেছে। এই প্রক্রিয়ায় তেল আনায় পরিবহন খরচ কমার পাশাপাশি সময়েরও ব্যাপক সাশ্রয় হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন