রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

এডিবির রেকর্ড ২৯.৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

এডিবির রেকর্ড ২৯.৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ঘোষণা

এডিবির রেকর্ড অর্থায়ন

এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর টেকসই উন্নয়ন এবং চলমান সংকট মোকাবিলায় ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থার ‍‍`অ্যানুয়াল রিপোর্ট ২০২৫‍‍`-এ এই তথ্য জানানো হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় অর্থাৎ ২০২৪ সালের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। 

এই বিশাল অংকের অর্থায়ন এ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে এডিবির সক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া এই ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। 

এই সামগ্রিক অর্থায়নের ফলে এশিয়াজুড়ে প্রায় ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষের নতুন করে কাজের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন ১৮ কোটিরও বেশি মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে এই অর্থের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে।

২০২৫ সালে এডিবির কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার ছিল বেসরকারি খাতের উন্নয়ন। এ খাতে সংস্থাটি ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা এই মাইলফলক অর্জন সম্পর্কে বলেন, "২০২৫ সালে এডিবি নজিরবিহীন এবং ঐতিহাসিক সহায়তা প্রদান করেছে। এটি এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষের চাহিদা পূরণে এডিবির দ্রুত ও বড় পরিসরে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ও সক্ষমতাকে প্রমাণ করে।"

আঞ্চলিক ভিত্তিতে এই অর্থায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া যেখানে বরাদ্দ ৯ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া মধ্য-পশ্চিম এশিয়ায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন এবং পূর্ব এশিয়ায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য ৬৮০ মিলিয়ন এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ৩০২ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। অর্থ, পরিবহন এবং পাবলিক সেক্টর ম্যানেজমেন্ট—এই তিনটি খাতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অর্থায়ন করা হয়েছে।

সহায়তার গুণগত মান ও ঋণের সক্ষমতা বাড়াতে ২০২৫ সালে এডিবি কিছু যুগান্তকারী সংস্কার এনেছে। ব্যাংকটির ঋণের সীমাবদ্ধতা কাটাতে সনদে বড় ধরণের সংশোধনী আনা হয়েছে, যার ফলে নতুন মূলধন ছাড়াই ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানি নীতিমালায় পরিবর্তন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারের নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। সহজতর করা হয়েছে কেনাকাটা বা প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়াও। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটি বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশের মালিকানাধীন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে।