মে ১১, ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
আগামী ৫ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সরকার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর বনানীতে দৈনিক বণিক বার্তার আয়োজনে ‘বৈশ্বিক অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে ট্যাক্স-জিডিপি প্রবৃদ্ধি একসময় ১১ থেকে ১২ শতাংশের বেশি ছিল। তবে বর্তমানে তা ৭ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন প্রকল্প বা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজস্ব বাড়াতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এনবিআর সংস্কারে অন্তর্বর্তী সরকার কিছু প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা যথেষ্ট ছিল না। আধা সংস্কারের কারণে পুরোনো ও নতুন কাঠামোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে, যারা সংস্কারের পরিধি ও পদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বর্তমান বরাদ্দ আকাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেই। তবে সরকার পর্যায়ক্রমে সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর কাজ করছে। দক্ষ জনশক্তি ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশব্যাপী বড় ধরনের একটি দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।প্রবাসী আয়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে রেমিট্যান্সের বড় অংশই অদক্ষ শ্রমিকদের পাঠানো অর্থ। তাদের দক্ষতা বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স ৫০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তবে দেশের বর্তমান কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্টিফিকেশন আন্তর্জাতিক মানের নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। সরকার এখন এই জায়গাগুলোতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।বিগত সরকারের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগ আমলে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। বিশেষ করে আইসিটি খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে শিক্ষিত তরুণদের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন