রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দেশের পোশাক শিল্পে টানা ১১ মাস রপ্তানি আয় হ্রাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৭, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

দেশের পোশাক শিল্পে টানা ১১ মাস রপ্তানি আয় হ্রাস

চলতি অর্থবছরে পোশাক রপ্তানিতে ধারাবাহিক ধস চলছে। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত গত ১১ মাসে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে তিন হাজার ৫৩১ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তিন হাজার ৬৫৬ কোটি ডলারের তুলনায় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ কম।সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো ইইউ বাজারে রপ্তানি পতন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ আয় কমেছে ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ তথ্য বলছে, মে মাসে বাংলাদেশ থেকে ৪৪০ কোটি ২৭ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে এ পরিমাণ ছিল ৪৭৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। 

এর মধ্যে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৫৯ কোটি ডলার, যা গত বছরের মে মাসের ৩৯২ কোটি ডলারের চেয়ে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কম। পোশাক খাতের এই বড় পতনের কারণেই সামগ্রিক রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ইইউতে এক হাজার ৭৩৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। 

আগের অর্থবছরে একই সময়ে আয়ের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮২৫ কোটি ডলার।বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে এ সময়ে ৭০৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় আয় মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমেছে। তবে একক বাজারে এমন নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি শিল্পের জন্য সতর্কসংকেত।বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চলমান পরিস্থিতিতে দেশের রপ্তানি কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। রপ্তানি আদেশ ব্যাপকভাবে কমেছে। 

সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আদেশ ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ইইউভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি শুল্কের কারণে তারা কম দামে ইইউতে পণ্য পাঠাচ্ছে।বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, ইইউ বাজারে পোশাক আমদানিতে মন্দা চলছে। এই মন্দার প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ওপর নয়, অন্য প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর ওপরও পড়ছে। 

চাহিদা কমায় ইইউর বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। তারা আগের চেয়ে বেশি দরকষাকষি করছে এবং কম দামে পণ্য কিনতে চাইছে। এখন যারা বেশি মূল্যছাড়ের চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে, তাদের জন্যই ইইউ বাজার সহজ হবে।সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে না পারলে পোশাকসহ সামগ্রিক রপ্তানি খাতে চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।