জুন ১১, ২০২৬, ০৭:১২ পিএম
বৈশ্বিক বাজারে চলমান প্রতিযোগিতায় দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আর্থিক তারল্য সচল রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল বড় সুখবর দেওয়া হয়েছে। নতুন কর নীতি অনুযায়ী, বিভিন্ন রপ্তানি আয়ের বিপরীতে প্রাপ্ত নগদ সরকারি প্রণোদনার ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে এক লাফে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ করার ঐতিহাসিক প্রস্তাব করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ মেগা বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিশেষ করছাড়ের ঘোষণা দেন।জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতিতে এই বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এই বড় করছাড়ের ফলে স্থানীয় রপ্তানি খাতে নতুন অর্থের তারল্য প্রবাহ অনেক বাড়বে এবং উৎপাদনশীলতা গতিশীল হবে। তবে এই লোকমুখী ছাড়ের কারণে সরকারের খাত থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হাতছাড়া বা কম হতে পারে। বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পসহ প্রায় ৪৩টি রপ্তানি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়ে থাকে। অবশ্য নগদ প্রণোদনার ওপর করের বোঝা অর্ধেক কমানো হলেও মূল রপ্তানি আয়ের বিপরীতে প্রযোজ্য প্রচলিত উৎসে কর আগের মতোই ১ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর গঠিত নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের এটিই প্রথম জাতীয় বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল মেগা বাজেটে দেশের স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্প সুরক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়িক নেতারা মনে করছেন, করের হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আণায় বৈশ্বিক মন্দার মাঝেও দেশের পোশাক শিল্প মালিকদের পরিচালন ব্যয় কমবে এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন