রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ২৭, ২০২৬, ০২:১৫ পিএম

বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

বৈশ্বিক বাজার ও জ্বালানি খাতের তীব্র অস্থিরতা মোকাবিলাসহ দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে প্রায় ১১০ কোটি মার্কিন ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশীয় মুদ্রায় এই বিশাল সহায়তার পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দুটি পৃথক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আওতায় এই বিশাল জরুরি অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।বিশ্বব্যাংকের অনুমোদিত এই নতুন তহবিলের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই অর্থ দিয়ে চলতি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর মাসের আমন মৌসুম এবং পরবর্তী বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার আমদানিতে বড় ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। 

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশেরও বেশি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাজারের আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় মোট ৬ লাখ টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানি করা হবে, যার অর্ধেকই থাকবে ইউরিয়া সার এবং এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।দেশের ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আসে মূলত আমন ও বোরো মৌসুম থেকে এবং দেশের অর্ধেক মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি। 

সারের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হলে তা খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা প্রকল্পের আওতায় বাকি ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা দ্রুত ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ মূলত দেশের বিভিন্ন সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ পরিবার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং দেশের খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে সরাসরি জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে।

বিদ্যমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই বিশেষ অর্থায়নের দ্রুত ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে can বিশ্ব অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সহজে রক্ষা করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে উল্লেখ করেন, এই সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষের নিয়মিত কর্মসংস্থান ও জরুরি সেবাগুলো সফলভাবে অব্যাহত থাকবে।