রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় পেপাল আসার পথ সুগম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

আগস্ট ২, ২০২৬, ১১:০৯ পিএম

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালায় পেপাল আসার পথ সুগম

Ai - ছবি

আন্তর্জাতিক ডিজিটাল লেনদেন সহজ করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে দেশে পেপাল চালুর পথ সুগম হলো।ব্যাংক মধ্যস্থতাকারী আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল লেনদেন কাঠামো নামের এই ঘোষণাকে যুগান্তকারী বলছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সাবেক সভাপতি আলমাস কবির জানান, এটি একটি অত্যন্ত দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এতদিন পেপাল বা পেওনিয়ারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করা কঠিন ছিল, যা এখন অনেক সহজ হবে।

আগে পেপালের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জুমের সেবার মাধ্যমে দেশে শুধু টাকা আনা যেত।কিন্তু দেশের বাইরে টাকা পাঠানোর কোনো সুযোগ ছিল না। নতুন এই নীতিমালার ফলে ক্রেডিট কার্ডের মতো ভ্রমণ কোটার আওতায় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত বিদেশে পাঠানো যাবে। তবে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ সীমা থাকবে ৩০০ ডলার। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হলে পেপালের মাধ্যমে কেনাকাটা ও অন্যান্য সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে। পরবর্তীতে অপব্যবহার না হলে এই ৩০০ ডলারের সীমা বাড়িয়ে ৫০০ ডলার করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পেপালের বাংলাদেশে না আসার পেছনে মূলত দুটি কারণ ছিল। গত বছরের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রতিনিধি দল ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আসে। সে সময় তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রাথমিক সমীক্ষা সম্পন্ন করে। তাদের প্রধান ভয় ছিল মুদ্রাপাচার প্রতিরোধ আইনের কড়াকড়ি। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা এসব বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের বাজারটি বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হবে কি না, তা নিয়েও তাদের সংশয় ছিল।

নতুন নীতিমালার পর পেপালের ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন আলমাস কবির। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংক এরই মধ্যে পেপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। নতুন এই নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানটি বেশ উৎসাহিত হয়েছে।শ্রীলঙ্কায় মাত্র দুই থেকে তিন মাস আগে কার্যক্রম শুরু করেছে পেপাল।বৈশ্বিক বাজারের অন্যান্য অগ্রাধিকার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনই বাংলাদেশে আসার নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি তারা। তবে আগামী বছরের মধ্যে দেশে পেপাল চালু হতে পারে।

ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর পাশাপাশি গ্রাহক সচেতনতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে জালিয়াতির ঝুঁকি থাকে। একবার আস্থার সংকট তৈরি হলে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে পারে।ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপাল অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি মাধ্যম। বিদেশি গ্রাহকরা পেপাল ব্যবহার করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। 

কারণ এতে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ছয় মাস পর্যন্ত টাকা ফেরতের সুযোগ থাকে। সরাসরি লেনদেন চালু হলে ফ্রিল্যান্সারদের কাজের সুযোগ আরও বাড়বে।তবে শুধু লেনদেনের মাধ্যম থাকলেই কাজ মিলবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, ব্লকচেইন ও ডেটা অ্যানালিটিক্সের মতো নতুন প্রযুক্তিতে ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। দক্ষতা না বাড়ালে অনেকেই বৈশ্বিক বাজারে কাজ হারাবেন, কারণ সাধারণ কাজগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমেই করা সম্ভব হচ্ছে।