বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ: ১০৩ এনওসি বাতিল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

বেনাপোলে ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ: ১০৩ এনওসি বাতিল

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বন্দরটি দিয়ে ভারতীয় ইলিশের কোনো চালান দেশে প্রবেশ করেনি। অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক আদেশে মঙ্গলবার আমদানির জন্য অনুমোদিত ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করা হয়।

বন্দরে মাছ খালাস পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, সকাল থেকে কোনো ইলিশবাহী ট্রাক বন্দরে আসেনি। মৎস্য অধিদপ্তর আমদানিকারকদের সনদ বাতিল করায় কোনো পক্ষ নতুন করে মাছ খালাস করতে পারেনি। এদিকে বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনায় আমদানি কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই, আগস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে ৫৩৫ মেট্রিক টন ইলিশ দেশে ঢুকেছে।মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে মোট এক হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানির অনুমোদন ছিল। সেই বরাদ্দের মধ্যে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এসেছে ৫৩৫ মেট্রিক টন। ১০৩টি সনদ বাতিলের সিদ্ধান্তের পর অবশিষ্ট চালানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আমদানি বন্ধের পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দেশীয় মাছ ব্যবসায়ীরা। তাদের বক্তব্য, বাজারে ভারতীয় সরবরাহ বন্ধ থাকলে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে আহরিত ইলিশের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং ক্রেতারা বিভ্রান্তি ছাড়া প্রকৃত দেশি ইলিশ পাবেন। ক্রেতাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল, আমদানিকৃত ভারতীয় ইলিশের বাহ্যিক গঠন স্থানীয় পদ্মার ইলিশের কাছাকাছি হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম দামের মাছ চড়া মূল্যে বিক্রি করছিলেন। বাজারে তদারকি চালিয়ে এ ধরনের অনিয়মের কারণে পূর্বে একাধিক ব্যবসায়ীকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়।বন্দর সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ জানিয়েছে, ভারত থেকে আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে দুই ডলার পর্যন্ত নথিভুক্ত করা হচ্ছিল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫০০ টাকার সমান। পরে সেই মাছ স্থানীয় খোলাবাজারে দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। কম আমদানি মূল্য দেখিয়ে অর্থপাচারের সুযোগ তৈরির আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছিলেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও এ বিষয়ে নীতি-নির্ধারকদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি।

তবে হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে মারাত্মক আর্থিক বিপর্যয়ে পড়ার কথা জানিয়েছেন আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই। তিনি উল্লেখ করেন, চালানের জন্য ভারতে অগ্রিম মাছ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন সেগুলো নামমাত্র মূল্যে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হওয়ায় পরিবহন ও ক্রয় খরচের বড় আর্থিক ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে তাদের।