অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:০২ এএম
মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে ৪ অক্টোবর থেকে। এই নিষেধাজ্ঞা শুরুর শেষমুহূর্তের দিনে চাঁদপুরের ইলিশের হাটবাজারগুলো এখন বেচাকেনার হাঁকডাকে গরম। নিষেধাজ্ঞা শুরুর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দাম আকাশচুম্বী নিলেও বাজারে পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশের চরম সংকট দেখা গেছে।
শুক্রবার শহরের বড় স্টেশন মাছঘাটসহ আশপাশের বাজার ঘুরলে ইলিশ নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়। এ দিনে ২ থেকে আড়াই কেজি ওজনের পদ্মার ইলিশের দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। দাম এত বেশি হলেও মাছঘাটে ইলিশ কিনতে আসা ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।
ক্রেতারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে বরফকল বন্ধ থাকবে এবং ২২ দিন দূর-দূরান্তে ইলিশ পাঠানো যাবে না। তাই দাম যাই হোক, এখন সাধ্যমতো ইলিশ কিনে আজই পাঠাতে চাইছেন তারা। তবে ইলিশের চেয়ে ক্রেতা বেশি হওয়ায় বিক্রেতারা দামের লাগাম টানছেন না।
হরিণা ঘাটের খুচরা ইলিশ বিক্রেতা আইয়ুব আলী জানান, গত কয়েকদিন ধরেই ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান দামগুলো দেখলে বোঝা যায়, বাজার কতটা অস্থির:
-
২০০ গ্রাম ওজনের ছোট সাইজের ইলিশ: হালিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকা।
-
৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ: প্রতি কেজি ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা।
-
২.২ কেজি থেকে ২.৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের পদ্মার ইলিশ: প্রতি কেজি ৩,৫০০ টাকা থেকে ৪,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা রফিক হতাশ হয়ে বলেন, পদ্মা-মেঘনার ইলিশ একেবারেই নেই, যা আছে তারও দাম হাতের নাগালের বাইরে। তিনি হাতিয়া, রামগতির ছোট সাইজের ইলিশ কিনতে গিয়েও উচ্চ দামের কারণে কিনতে পারেননি। শুধু ইলিশ নয়, ইলিশের ডিমের দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে।হরিণা মাছ ঘাটের প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ছৈয়াল বলেছেন, এবার মৌসুমে কমবেশি ইলিশ পাওয়া গেলেও তাজা ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা দেশজুড়ে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদরের জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, জাটকা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর থাকায় জেলেরা বড় সাইজের ইলিশ পাচ্ছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার খবরকে কেন্দ্র করে বিক্রেতারা দাম অনেক বেশি রাখছেন কিনা, সেই বিষয়টি তদারকি করা হবে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন