রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

দুই সপ্তাহে ভারতে গেল ১৩০ টন ইলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ৩, ২০২৫, ১১:২২ এএম

দুই সপ্তাহে ভারতে গেল ১৩০ টন ইলিশ

ছবি - সংগৃহীত

চলতি বছর দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে শর্ত সাপেক্ষে মোট ১২ লাখ কেজি ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অনুমতির মেয়াদ রয়েছে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ভারতে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার কেজি অর্থাৎ ১৩০ টন ইলিশ। এই ইলিশ রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১৬ লাখ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২০ কোটি টাকা।

অনুমোদন অনুযায়ী, মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইলিশের ওজন এক কেজি ২০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজির মধ্যে এবং রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৫৩৩ টাকা)।এবারের রপ্তানির হার গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানকে অনুসরণ করছে, যেখানে অনুমোদনের তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে।

  • ২০২৩ সালে: ৩,৫০০ টন রপ্তানির অনুমতি থাকলেও, রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬৩১ দশমিক ২৪ টন।

  • ২০২২ সালে: অনুমতি ছিল ২,৯০০ টন, রপ্তানি হয়েছিল ১,৩০০ টন।

  • ২০২১ সালে: অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ৪,৬০০ টন, রপ্তানি হয় ১,৬৯৯ টন।

বিশ্বাস ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নূরুল আমিন বিশ্বাস এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "এবারও ইলিশের সংকট ও অতিরিক্ত দামের কারণে অনুমোদিত পুরো ইলিশ রপ্তানি সম্ভব না-ও হতে পারে।"ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ভারত সাধারণত বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে ইলিশ আমদানি করে। তবে মিয়ানমার থেকে ইলিশের আমদানি বেশি।

যেমন, ২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৬ লাখ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে, যার গড় আমদানিমূল্য ছিল ৬ ডলার ২৩ সেন্ট। অন্যদিকে, একই সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করেছে ৫ লাখ ৪২ হাজার কেজি ইলিশ, যার গড় আমদানিমূল্য ছিল ১০ ডলার ৯৩ সেন্ট। অর্থাৎ, বাংলাদেশের ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ভারতের বাজারে এর চাহিদা প্রচুর।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার ভোজনরসিকরা প্রতিবছরই বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ নিতে অপেক্ষায় থাকেন। বাংলাদেশ সরকার সেই চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছর দুর্গাপূজার সময় সীমিত পরিমাণে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে থাকে।

বেনাপোল মৎস্য কোয়ারেন্টাইন অফিসার সজীব সাহা জানিয়েছেন, ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি কার্যক্রম শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।