রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বাজারে শীতের সবজি, দামে নেই স্বস্তি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ১২:৩৬ পিএম

বাজারে শীতের সবজি, দামে নেই স্বস্তি

ছবি - সংগৃহীত

হেমন্তের হালকা আমেজের সঙ্গে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে উঠতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, গাজর, টমেটোর মতো শীতের পরিচিত সবজি এখন শোভা পাচ্ছে অনেক দোকানেই। তবে এই আগাম আগমন ক্রেতাদের জন্য খুব একটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসেনি, কারণ দাম রয়ে গেছে বেশ চড়া। ব্যবসায়ীরা অবশ্য বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় অন্যান্য সবজির দামে সামান্য প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এবং আর দুই-এক সপ্তাহ পরেই হয়তো দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।

শুক্রবার রাজধানীর নিউমার্কেট, হাতিরপুল, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও মিরপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এই চিত্র দেখা গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, শীতের আগাম সবজি হিসেবে পরিচিত ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারে বেশ ছোট হলেও প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি শিম ও গাজরের দাম হাঁকা হচ্ছে ১০০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি এখনো ১২০ টাকাতেই স্থির রয়েছে। শীতের সবজির পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও বেশ চড়া। বেশিরভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা বা তারও বেশি দামে।

এর মধ্যে করলা, বরবটি ও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ঢ্যাঁড়শ ও ঝিঙের কেজি ৬০ টাকা। অন্যদিকে চিচিঙ্গা ৪০ টাকা এবং ধুন্দুল ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। লাউয়ের দাম কিছুটা কমে প্রতি পিস ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশি থাকা পণ্যের তালিকায় সবার উপরে রয়েছে কাঁচামরিচ, যা আগের মতোই প্রতি কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কমেনি, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। এছাড়া পটোল প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ও কচুর কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে (৩০ টাকা কেজি), কাঁচা কলা (৩০ টাকা হালি) এবং আলু (২০ টাকা কেজি)।ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে সবজির বাজার বেশ চড়া যাচ্ছে। বন্যা, অতিবৃষ্টি এবং পরিবহন সংকটের কারণে এই সময়ে দাম বেড়েছিল। এখন শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় সরবরাহ বাড়বে এবং দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন। তবে ক্রেতারা বলছেন, একসঙ্গে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশি হওয়ায় তাদের মাসিক খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এই বাড়তি দাম বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

সবজির বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলেছে ডিমের দামে। বাজারে প্রতি ডজন ডিমে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকায় এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারে ইলিশ মাছের দেখা মিলছে না। এই সুযোগে অন্যান্য মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। যদিও চাষের রুই ও কাতলা মাছের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে, তবে টেংরা, পাবদা, শিং, মাগুরসহ অন্যান্য দেশি ও সামুদ্রিক মাছ বাড়তি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মুরগি এবং মাংসের বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। লাল লেয়ার মুরগির কেজি ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে। গরু ও খাসির মাংসের দামও অপরিবর্তিত আছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৬০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, শুধু সবজি নয়, মাছ-মাংস-ডিমসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিক্রেতারা যদিও আগামী সপ্তাহ থেকে দাম কমার আশা শোনাচ্ছেন, তবে বাজার স্থিতিশীল হতে আরও কতদিন লাগবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।