নভেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম
পূর্ববর্তী সময়ে ফলাফল প্রকাশের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, "পরীক্ষা না নিয়ে নম্বর দেওয়া ছিল অগ্রহণযোগ্য। এটি শিক্ষাব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। আমরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেছি।"
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, মূল্যায়নে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পড়ার সক্ষমতা (রিডিং ক্যাপাসিটি) ও গণিতে সক্ষমতা উভয় ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা রয়েছে। এই দুর্বলতা দূর করতে বড় পরিসরে মূল্যায়ন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান নিয়ে যে উদ্বেগ দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তা কাটাতে বাস্তবসম্মত ও নির্মোহ মূল্যায়ন ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এজন্য সরকার ইতোমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন কাঠামোর সদস্য হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অধ্যাপক আবরার বলেন, "আমরা হয়তো নিচের দিকেই থাকব—তাতে সমস্যা নেই। অন্ততপক্ষে জানব আমরা কোথায় আছি, কী ঠিক করতে হবে।
শিক্ষার মান উন্নয়নে বাধা সৃষ্টিকারী দুটি মূল বিষয়ে তিনি কঠোর মন্তব্য করেন:
কোচিং ও গাইড বই: তিনি মনে করেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোচিং বা গাইড বই বন্ধ হবে না। কেন এগুলোর চাহিদা তৈরি হচ্ছে—কেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল, সেটাই মূল প্রশ্ন।
রাজনৈতিক প্রভাব: উপদেষ্টা প্রশাসনিক রাজনৈতিক প্রভাব দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "স্কুল-কলেজের প্রশাসনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষাব্যবস্থায় বিপর্যয় এনেছে। এটি ঠিক করা এখন আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলোর একটি।"অধ্যাপক আবরার উল্লেখ করেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার দুটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সমন্বয় ভবিষ্যতে আরো কার্যকর হবে। কসরুজ্জামান আহমেদের নেতৃত্বে মাধ্যমিক শিক্ষার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন উদ্যোগ চলছে বলেও তিনি জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন