জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলকে ‘বেতন বৃদ্ধি’ হিসেবে না দেখে বরং ‘অর্থনৈতিক সমন্বয়’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর কবির। মুদ্রাস্ফীতি ও টাকার অবমূল্যায়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি এই মত প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে প্রণীত অষ্টম পে-স্কেলকে ভিত্তিবর্ষ ধরে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময়কালে মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ড. জাহাঙ্গীর কবিরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সময়কালে দেশে যৌগিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০৫ থেকে ১১০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ২০১৫ সালে ১০০ টাকায় যে পণ্য কেনা যেত, ২০২৬ সালে তার জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২০৫ থেকে ২১০ টাকা।
ফলে টাকার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।ডলার ও স্বর্ণের দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০১৫ সালে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল প্রায় ৭৮ টাকা, যা ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২২ টাকায়। এতে আমদানিনির্ভর পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, ২০১৫ সালে প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে টাকার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের একটি বাস্তব সূচক।
জাতীয় বাজেট ও রাজস্ব আয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের আয়ের তুলনা করে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের মোট বাজেট ছিল প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেড়ে প্রায় ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে রাজস্ব আয়ও প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকায় তাদের প্রকৃত আয় কমেছে।
স্ট্যাটাসের শেষে তিনি মন্তব্য করেন, “এটি কোনো বিলাসী দাবি নয়। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন পুনর্গঠন না হলে কর্মদক্ষতা ও কর্মসন্তুষ্টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন পে-স্কেলকে বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং অর্থনৈতিক সমন্বয় হিসেবেই দেখা উচিত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন