জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর এসেছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া উৎসব ভাতার জট অবশেষে খুলতে শুরু করেছে। তথ্যগত ভুল বা কারিগরি জটিলতার কারণে যেসব শিক্ষক এতদিন ঈদ বা নববর্ষের উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের দ্রুত বকেয়া বিল সাবমিট করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অধিদপ্তরের ইএমআইএস (EMIS) সেলের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে যা ভুক্তভোগী হাজারো শিক্ষকের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যখন থেকে শিক্ষকদের এমপিও প্রদান প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) পদ্ধতিতে চালু করা হয়, তখন থেকেই অনেক শিক্ষকের এনআইডি বা ব্যক্তিগত তথ্যের গরমিল ধরা পড়ে। এই তথ্যগত বিভ্রাটের কারণে শত শত শিক্ষকের উৎসব ভাতা আটকে যায়।
বর্তমানে মাউশির ইএমআইএস পোর্টালে বকেয়া বিল দাখিলের জন্য ‘ইএফটি বিল সাবমিট’ (EFT Bill Submit) অপশনটি পুনরায় সচল করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের জরুরি ভিত্তিতে এই অপশন ব্যবহার করে তাদের পাওনা বিল জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।মাউশির ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সুযোগ কেবল উৎসব ভাতার জন্যই নয় বরং যাদের মূল বেতন বা নিয়মিত এমপিও মাসের পর মাস বকেয়া রয়েছে, তারাও এখন আবেদন করতে পারবেন।
তবে আবেদনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ নিয়ম মানতে হবে— শিক্ষকদের মাসভিত্তিক আলাদা আলাদা বকেয়া বিল সাবমিট করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিভাগ তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো ত্রুটি না থাকলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্থ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সমাজে দীর্ঘদিনের যে অসন্তোষ ছিল তা অনেকাংশেই দূর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাউশি কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল এই সিস্টেমকে আরও ত্রুটিমুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধে কোনো দীর্ঘসূত্রতা তৈরি না হয়। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন সঠিক সময়ে বেতন ও ভাতা প্রাপ্তি শিক্ষকদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন