মার্চ ২, ২০২৬, ১০:১৭ এএম
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে থাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে এই অর্থ সরাসরি শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তবে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্যে ভুল থাকা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পক্ষ থেকে বিল সাবমিট করতে ধীরগতির কারণে পুরো কার্যক্রমটি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা ইএমআইএস সেলের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের বেতনের জন্য এখনো ১ হাজার ৩৩৫ জন শিক্ষক বিল সাবমিট করেননি। অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ইতিমধ্যে বেতনের মূল প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে চূড়ান্ত পরিশোধে সময় লাগছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষকরা যত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে তাদের তথ্য অনলাইনে সাবমিট করবেন, তত দ্রুতই তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো সম্ভব হবে। বর্তমানে অনেক শিক্ষক তথ্য সংশোধনের অপেক্ষায় থাকায় বিল সাবমিট করতে দেরি করছেন যা পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।উল্লেখ্য যে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এমপিওভুক্ত সকল জনবলের বেতন সরাসরি ইএফটির মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। গত জুলাই মাস পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সফলভাবে চললেও আগস্ট থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের মাধ্যমে অনলাইনে বিল সাবমিট করার একটি নতুন মডিউল যুক্ত করা হয়।
ইএফটিতে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য আইবাস ডাবল প্লাস সিস্টেমের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। যেসব শিক্ষকের তথ্য আগে ইনভ্যালিড বা ভুল ছিল কিন্তু বর্তমানে তা সংশোধন করা হয়েছে, তাদের বকেয়া বিল উত্তোলনের জন্য ইএমআইএস সিস্টেমে বিশেষ অপশন দেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ইএমআইএস সিস্টেমের এমপিও-ইএফটি মডিউলে লগইন করে বকেয়া ও নিয়মিত বিল আলাদাভাবে সাবমিট করতে বলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানের দাখিল করা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত শিক্ষকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা হবে। তবে যারা ইতিমধ্যে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে বকেয়া বিল গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মাউশি কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রধান বিল সাবমিট করলে শিক্ষকরা তাদের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রাপ্য বেতন ও ভাতা হাতে পাবেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন