রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শিক্ষা উপবৃত্তি নির্দেশিকা প্রকাশ, কোন ক্লাসে কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৫, ২০২৬, ০২:১৬ পিএম

শিক্ষা উপবৃত্তি নির্দেশিকা প্রকাশ, কোন ক্লাসে কত টাকা পাবেন শিক্ষার্থীরা?

উপবৃত্তির নতুন নীতিমালা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৬ সালের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এই নতুন নীতিমালা অবমুক্ত করা হয়। প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় এবং শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এই উপবৃত্তি সুবিধার আওতায় আসবে। 

সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে যার মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল ড্রেস, জুতা, ব্যাগ, ছাতা ও টিফিন বক্সসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ক্রয় করতে পারবে।

নতুন নির্দেশিকায় উপবৃত্তির হার শ্রেণিভেদে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ টাকা হারে উপবৃত্তি পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্ষেত্রে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ টাকা এবং একই পরিবারের দুজন শিক্ষার্থী থাকলে মাসিক ৩০০ টাকা হারে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। 

যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে সেখানে একজন শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ২০০ টাকা এবং একই পরিবারের দুজন শিক্ষার্থীর জন্য মাসিক ৪০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে একটি পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষার্থী এই উপবৃত্তি সুবিধার জন্য বিবেচিত হবে। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় এই টাকার পরিমাণ হ্রাস বা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।উপবৃত্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীর বয়স অন্তত ৪ বছর হতে হবে এবং প্রতি মাসে পাঠদিবসের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। 

প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও মাসে অন্তত ৮০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই শর্ত কিছুটা শিথিল করে প্রতি বিষয়ে ৩৩ শতাংশ নম্বর পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তাদের আগের বিদ্যালয়ের ছাড়পত্রে প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ থাকতে হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত সচল মোবাইল ফোনে একটি এমএফএস বা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট থাকতে হবে যার মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী যদি নির্ধারিত নম্বর পেতে ব্যর্থ হয় বা ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে তবে তার উপবৃত্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। 

তবে বিশেষ প্রয়োজনে যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অসুস্থতার কারণে উপস্থিতি কম হলে উপজেলা বা থানা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে বিশেষ বিবেচনায় উপবৃত্তি প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনে ২০ শতাংশ পর্যন্ত উপস্থিতি শিথিল করতে পারবেন। প্রতি বছর জুন মাসের উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে ১০ জুন পর্যন্ত উপস্থিতির হারকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে।