শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মেহজাবীনকে ছাড়ানোর নেপথ্যে কারা? মুখ খুললেন তিশা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

মেহজাবীনকে ছাড়ানোর নেপথ্যে কারা? মুখ খুললেন তিশা

বিমানবন্দরে মেহজাবীন চৌধুরী

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। কাস্টমসের পক্ষ থেকে দেওয়া সেই রহস্যজনক ছাড়ের নেপথ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, মেহজাবীনকে বিমানবন্দর থেকে মুক্ত করতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

সম্প্রতি দেশের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক ঘরোয়া আড্ডায় নুসরাত ইমরোজ তিশা মেহজাবীনের মদসহ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানা গেছে। আড্ডার সূত্রমতে, তিশা নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিমানবন্দরে আটকের পর মেহজাবীনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন আসে।

 এরপর তারা প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে মেহজাবীনকে কাস্টমসের আইনি প্রক্রিয়া থেকে মুক্ত করতে সহায়তা করেন। গত ১৭ আগস্ট থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার সময় মেহজাবীন ও তাঁর সঙ্গীদের লাগেজ থেকে কাস্টমস কর্মকর্তারা ১৪ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করেন।নিয়ম অনুযায়ী অবৈধভাবে অ্যালকোহল বহনের দায়ে মামলা হওয়ার কথা থাকলেও সে সময় কোনো মুচলেকা ছাড়াই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কেবল জব্দ পণ্যের একটি রসিদ তৈরি করে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দরে নিয়োজিত এভিয়েশন সিকিউরিটির দুই কর্মকর্তাও বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তবে সেখানে মদের উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করে তিনি একে তাঁর ক্যারিয়ারের বিরুদ্ধে একটি চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মেহজাবীন তাঁর পোস্টে দাবি করেন যে, তিনি যখন নতুন করে কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন তখনই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। নারীদের সহজেই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো মহলের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে কাস্টমসের কড়াকড়ি এড়িয়ে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ মাদক ছাড় পেল এবং সেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের প্রকৃত মাত্রা কতটুকু ছিল, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।