মার্চ ৭, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান সমালোচনা ও বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন আলভী। শুক্রবার মধ্যরাতে দেওয়া এই পোস্টে তিনি ইকরার মৃত্যু নিয়ে বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ তোলার পাশাপাশি ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
আলভী একে ইকরার মৃত্যু নিয়ে তার শেষ পোস্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে আইনের প্রতি তার পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। তবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে এনেছেন যা এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আলভী তার পোস্টে বাসার ড্রয়িং-ডাইনিং রুমে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন যে ওই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ বা এক্সেস তার কাছে ছিল না বরং তা ইকরার ফোনে ছিল।
ইকরার ফোনটি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য রয়েছে। আলভী জানান যে তিনি যখন শুটিংয়ের কাজে নেপালে ছিলেন তখন থেকে শুরু করে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত। তার অনুপস্থিতিতে ২৫ থেকে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ইকরার বেশ কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবীর বাসায় যাতায়াত ছিল যার দৃশ্য সিসিটিভিতে সংরক্ষিত থাকার কথা। আলভী অভিযোগ করেছেন যে ওই সময়গুলোতে বাসায় মাদক ও মদ পান করা হয়েছে এবং ইকরা তার সহকারীর মাধ্যমে ঘুমের ওষুধ আনিয়েছিলেন।
তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে এই অভিনেতা অনুরোধ করেছেন যেন সিসিটিভি ফুটেজ এবং ইকরার ফোনের কোনো তথ্য মুছে ফেলা না হয়। তিনি দাবি করেন ইকরার মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ এবং কল লিস্ট পরীক্ষা করলেই অনেক সত্য বেরিয়ে আসবে। এছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে তিনি সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন যে আগের রাতে মাদক সেবন করা হলে তা অবশ্যই রিপোর্টে আসা উচিত। আলভী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ময়নাতদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তিনি ইকরার মানসিক অবস্থা এবং সেই সময়ের অস্বাভাবিক আচরণের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান।
ব্যক্তিগত জীবনের কিছু গোপন ও সংবেদনশীল তথ্যও এই পোস্টে শেয়ার করেছেন জাহের আলভী। তিনি দাবি করেন ইকরা তার বিবাহিত স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই অন্য একজনকে বিয়ে করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে ফিরে আসলে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে কলহ থাকলেও একে অপরের প্রতি গভীর মায়া ও ভালোবাসা ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। আলভী অভিযোগ করেন যে ইকরার পরিবারের প্রতিশোধপরায়ণতা এবং তার কর্মক্ষেত্রের কিছু মানুষের বৈরী আচরণের কারণে তাকে অন্যায্যভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হতে পারে। সবশেষে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি সবার কাছে ন্যায়বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন