এপ্রিল ১৬, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
মার্কিন টেলিভিশনের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও আলোচিত রিয়েলিটি সিরিজ ‘মাই ৬০০ এলবি লাইফ’-এর মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া তারকা ডলি মার্টিনেজ আর নেই। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তরুণ এই তারকার অকাল প্রয়াণে মার্কিন বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ডলি মার্টিনেজের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার বোন লিন্ডসে কুপার।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এন্টারটেইনমেন্ট উইকলি এক প্রতিবেদনে এই তথ্যটি প্রকাশ্যে এনেছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক অত্যন্ত আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে লিন্ডসে কুপার তাঁর বোনের মৃত্যুসংবাদ ভক্তদের জানান। তিনি লিখেছেন যে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তিনি সবাইকে জানাচ্ছেন তাঁর সুন্দরী বোন আর এই পৃথিবীতে নেই।
ডলির ব্যক্তিত্ব ছিল অসাধারণ এবং তাঁর হাসি ও স্নেহময়তা যেকোনো গুমোট পরিবেশকে মুহূর্তেই আলোকিত করে তুলতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন। লিন্ডসে আরও জানান যে ডলির অকাল বিদায়ে পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তবে তারা এই ভেবে সান্ত্বনা পাচ্ছেন যে ডলি এখন স্বর্গে তাদের প্রয়াত বাবার সঙ্গেই আছেন।
জানা গেছে যে মৃত্যুর কয়েক দিন আগে ডলি মার্টিনেজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই সময় লিন্ডসে তার বোনের জন্য ভক্তদের কাছে দোয়া ও সহানুভূতি কামনা করেছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই মৃত্যুর এই দুঃসংবাদটি আসে। ডলি মার্টিনেজ জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল টিএলসি-র ‘মাই ৬০০ এলবি লাইফ’-এর দশম সিজনে অংশগ্রহণ করে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। এই অনুষ্ঠানে মূলত ৬০০ পাউন্ডের বেশি ওজনের মানুষের ওজন কমানোর কঠিন সংগ্রাম এবং জীবনধারা তুলে ধরা হয়।
২০২১ সালে যখন ডলি এই রিয়েলিটি শোতে যোগ দেন তখন তাঁর ওজন ছিল প্রায় ৫৯৩ পাউন্ড। সেই সময় তিনি শারীরিক জটিলতার কারণে কৃত্রিম অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। চিকিৎসার সুবিধার্থে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং সেখানে বিখ্যাত ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডা. নাউ-এর নিবিড় তত্ত্বাবধানে ছিলেন। শোর চলাকালীন তিনি প্রায় ৪০ পাউন্ড ওজন কমাতে সক্ষম হলেও শারীরিক কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তখন অস্ত্রোপচারের চূড়ান্ত অনুমোদন পাননি।
ওজন কমানোর সেই অদম্য ইচ্ছা এবং জীবনের প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য ডলি মার্টিনেজ দর্শকদের কাছে অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক এক চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে টিএলসি নেটওয়ার্ক এবং অসংখ্য ভক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। ডলির বোন লিন্ডসে তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে ডলির উষ্ণতা এবং তাঁর স্মৃতিগুলো পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে। তাকে কখনোই ভোলা সম্ভব নয় এবং তাঁর চলে যাওয়া অপূরণীয় এক ক্ষতি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন