রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মাহবুব রিয়াজের সুর ও কণ্ঠে মুক্তি পেল নতুন গান ‍‍`দায়িত্বশীল‍‍`

শাহিন ইসলাম

মে ১৩, ২০২৬, ০১:০০ এএম

মাহবুব রিয়াজের সুর ও কণ্ঠে মুক্তি পেল নতুন গান ‍‍`দায়িত্বশীল‍‍`

দায়িত্বশীল

শিল্পী ও সুরকার মাহবুব রিয়াজের নতুন গান ‍‍`দায়িত্বশীল‍‍` ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পেয়েছে। প্লাবন শিল্পীগোষ্ঠী কুমিল্লার অরিজিনাল এই গানটির কথা লিখেছেন আবু তাহের বেলাল। শৈশবের স্মৃতি এবং একজন আদর্শ পথপ্রদর্শকের প্রভাবকে কেন্দ্র করে গানটি নির্মাণ করা হয়েছে। গানের সুর ও মেলোডি শিল্পী মাহবুব রিয়াজ নিজেই তৈরি করেছেন।

সংগীতটির ভিডিও চিত্র পরিচালনা করেছেন আবদুর রহমান সাইফি। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানাউল্লাহ মজুমদার, অ্যাডভোকেট শাহ জালাল ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মাসুম, মো. ফারহান জামান ও রনি আহমেদ। গানটি সম্পর্কে জানা যায়, এটি শিল্পীর জীবনের প্রথম দায়িত্বশীল মোহাম্মদ নুরুন্নবীকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ভিডিওটির চিত্রনাট্য লিখেছেন হাসিবুর রহমান এবং সংগীতায়োজন করেছেন আহমেদ রাসেল। গ্রাফিক্সের দায়িত্বে ছিলেন আরাফাত মাহমুদ।

লিরিক্সের ভাবনায় শৈশবের সেই রাখাল বালকের স্মৃতি ফুটে উঠেছে যার সান্নিধ্যে জীবনের সঠিক দিশা পাওয়া সম্ভব হয়েছে। গানের একটি বিশেষ অংশে বলা হয়েছে, "যার কথাতে চিনতে পারি কে যে আমার রব, যারই আলোর কণা মেখেমেখে আজো আমি প্রদীপ্তযে হই।" এই পঙক্তিগুলোর মাধ্যমে একজন মেন্টর বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

গানের বাণীতে সমসাময়িক বিষয়ের পাশাপাশি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে। বদর, উহুদ ও তায়েফ প্রান্তরের আলোক অভিজ্ঞান এবং কোরআন ও বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করেছেন গীতিকার আবু তাহের বেলাল। লিরিক্সে উল্লেখ করা হয়েছে, "পাশাপাশি ধরতো মেলে কোরআন ও বিজ্ঞান, বদর উহুদ তায়েফ মাঠের আলোক অভিজ্ঞান।" এই চরণের মাধ্যমে মেন্টর বা দায়িত্বশীলের শেখানো আদর্শিক পথরেখা বর্ণনা করা হয়েছে।

পুরো মিউজিক ভিডিওটি একটি নস্টালজিক আবহ তৈরি করে যেখানে একজন ছাত্র বা অনুসারী তার অতীতকে স্মরণ করছে। হাসিমুখে কথা বলা, মনের কলুষতা দূর করা এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো গুণাবলিগুলো গানের শব্দে প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে "হাতের মুঠোয় রাখতো বাদাম বইখাতা আর ছোট্ট উপহার" বাক্যটি শৈশবের সহজ-সরল বন্ধুত্বের প্রতিচ্ছবি হিসেবে কাজ করেছে।

সংগীতচিত্রটির নির্মাণে বিশেষ সহযোগিতায় ছিলেন এন এম মিলন হাজারী। প্লাবন শিল্পীগোষ্ঠী কুমিল্লার পক্ষ থেকে গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শ্রোতাদের মাঝে এটি ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। শৈশবের মেন্টরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আদর্শের এই গল্পটি আধুনিক সংগীতের ধারায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গানের শেষভাগে শিল্পীর দেখানো পথ ধরে নিজেকে প্রজ্বলিত রাখার দৃঢ় সংকল্প ফুটে উঠেছে। বর্তমানে গানটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দেখা যাচ্ছে।