রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৫, ১০:০৩ পিএম

তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ

ছবি - সংগৃহীত

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা একটি গুরুতর বিতর্কের মুখে পড়েছেন। পণ্য নিয়ে প্রচারণার চুক্তি ভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগে এক নারী উদ্যোক্তা তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। বুধবার, ২২ অক্টোবর, ওই নারী উদ্যোক্তার পক্ষে তার আইনজীবী অভিনেত্রীর নামে এই লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ করেন। নোটিশে দাবি করা হয়েছে, তানজিন তিশা একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে আটাশ হাজার আটশত টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়েছেন পেজটির প্রচারণার বিনিময়ে, কিন্তু তিনি সেই প্রচারণা চালাননি, শাড়ির মূল্য পরিশোধ করেননি এবং একপর্যায়ে উদ্যোক্তার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এই ঘটনায় অভিনেত্রীর কাছে শাড়ির মূল্যসহ মোট এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে তা পরিশোধ না করলে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি আইনে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।আইনি নোটিশে পুরো ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া জগতে সুপরিচিত। এই পরিচিতি ও তার সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার সুবাদেই তিনি নোটিশ প্রদানকারী উদ্যোক্তার অনলাইন পেজের সঙ্গে যুক্ত হন।

একপর্যায়ে তিনি পেজের বিভিন্ন শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে আটাশ হাজার আটশত টাকা মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শাড়ি পছন্দ করেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম আইডি থেকে উক্ত শাড়িটি কেনার প্রাথমিক ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু উদ্যোক্তা তাকে বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ও অভিনেত্রী বিবেচনা করে একটি ভিন্ন প্রস্তাব দেন। তিনি সরল বিশ্বাসে সিদ্ধান্ত নেন যে, শাড়িটি তিনি অভিনেত্রীকে তার পেজের প্রচারণার (পেজ প্রমোশন) বিনিময়ে প্রদান করবেন।

এই সমঝোতার ভিত্তিতেই শাড়িটি অভিনেত্রীর বাসস্থানের ঠিকানায় জরুরি ভিত্তিতে পৌঁছে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তা অভিনেত্রীর কথার ওপর সম্পূর্ণ সরল বিশ্বাস রেখে এই ব্যবসায়িক লেনদেনে সম্মত হয়েছিলেন।নোটিশে আরও বলা হয়, শাড়িটি গ্রহণ করার পর তানজিন তিশা বিভিন্ন সময়ে ভয়েস মেসেজ এবং লিখিত মেসেজের মাধ্যমে উদ্যোক্তাকে আশ্বস্ত করেন যে, তিনি শাড়িটি পরিধান করে ছবি তুলে তার পেজের জন্য প্রচারণা করে দেবেন। কিন্তু এই আশ্বাসের বাস্তবায়ন আর ঘটেনি।

নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিনেত্রী চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণ করেন। এর পর দীর্ঘ দশ মাস সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও তিনি সেই শাড়ি পরিধান করে কোনো ধরনের পেজ প্রমোশন করেননি। আরও অভিযোগ করা হয়, অভিনেত্রী বিগত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই উদ্যোক্তার সঙ্গে সব ধরনের কথোপকথন থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পেজ প্রমোশন করা থেকে যেমন বিরত থেকেছেন, তেমনি শাড়িটির মূল্য প্রদান করা থেকেও বিরত রয়েছেন। উদ্যোক্তা বিভিন্ন মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন বলে নোটিশে দাবি করা হয়।পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে যখন এই বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করে। নোটিশে বলা হয়, সংবাদ প্রকাশের পর তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি লেখেন, ‘গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক।’

অভিনেত্রীর এই মন্তব্যকে নোটিশে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। উদ্যোক্তার আইনজীবী বলেন, তিশার এই বক্তব্য তার মতো একজন পরিচিত অভিনেত্রীর কাছ থেকে কাম্য নয় এবং এই বক্তব্যটি ‘একাধারে মানহানিকর, কুরুচিপূর্ণ, বানোয়াট এবং সত্য গোপন করার ছলছাতুরি মাত্র’। নোটিশের ভাষ্যমতে, তানজিন তিশা একজন সুপরিচিত অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও আটাশ হাজার আটশত টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পেজ প্রমোশনের বিপরীতে গ্রহণ করেন, কিন্তু তিনি সেই প্রমোশন বা মূল্য পরিশোধ না করে উদ্যোক্তার সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন এবং প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইন অনুযায়ী একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আইনি নোটিশের শেষাংশে অভিনেত্রীর প্রতি সুস্পষ্ট দাবি ও চরমপত্র দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, যেহেতু দশ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অভিনেত্রী গ্রহণকৃত শাড়ির বিপরীতে কোনো প্রমোশন না করে এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন, সেহেতু এই নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে তাকে অবশ্যই উদ্যোক্তার নিকট থেকে গ্রহণ করা শাড়িটির মূল্য এবং এই ঘটনায় উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক ও মানসিক ক্ষতিপূরণ বাবদ সর্বমোট এক লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে, তার এই কৃতকর্মের জন্য উদ্যোক্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করারও দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, অন্যথায়, অর্থাৎ সাত দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ ও ক্ষমা প্রার্থনা না করলে, উদ্যোক্তা তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি আইনে উল্লিখিত ধারাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারাসমূহে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন এবং সেই আইনি প্রক্রিয়ার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব অভিনেত্রীকেই বহন করতে হবে। এই আইনি নোটিশকে কেন্দ্র করে বিনোদন অঙ্গন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, অভিনেত্রী তানজিন তিশা এই নোটিশের জবাবে কোনো পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেন, নাকি উদ্যোক্তার সঙ্গে সমঝোতায় আসেন।