অক্টোবর ২৪, ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। আদালতের নির্দেশে এটিকে আর আত্মহত্যা নয়, বরং ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গত সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে রমনা থানা পুলিশ ১১ জনকে আসামি করে মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্তে মাঠে নামে। তদন্তের শুরুতেই আসামিদের দেশত্যাগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে এ সংক্রান্ত চিঠিও দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের খোলামেলা বক্তব্যে দেশজুড়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য।আসামিদের গ্রেপ্তারের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।
যারা দেশে আছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা জোরদার করা হয়েছে। ওসি গোলাম ফারুক আশ্বাস দেন, খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।পুলিশের এই তৎপরতার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে মামলার ১১ নম্বর আসামি রেজভী আহমেদ ফরহাদের একটি পুরনো জবানবন্দি। ১৯৯৭ সালে আদালতে দেওয়া সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিটি সম্প্রতি আবারও সামনে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ওই জবানবন্দিতে রেজভী সালমান শাহকে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছিলেন, ‘আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি। এই হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে সাজানো হয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবারসহ অনেকে সরাসরি জড়িত ছিলেন।১৯৯৭ সালে দেওয়া সেই ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে রেজভী আরও জানান, সালমান শাহর মৃত্যু ছিল মূলত ১২ লাখ টাকার একটি হত্যার চুক্তি।
সেই চুক্তিটি করেছিলেন সালমান শাহর শাশুড়ি লতিফা হক লুসি। রেজভীর ভাষ্যমতে, এই হত্যা চুক্তিতে বাংলা সিনেমার খলনায়ক ডন, ডেভিড, ফারুক ও জাভেদও অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর পর সেই জবানবন্দি এবং পুলিশের নতুন তদন্তে এই মামলার রহস্য উন্মোচনের আশা দেখছেন অনেকেই।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন