জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
নবীজি (সা.)-এর জীবদ্দশায় ব্যাপকভাবে ধর্মদ্রোহের সূচনা না হলেও তিনি এই ফিতনা সম্পর্কে উম্মতকে বারবার সতর্ক করে গেছেন। বেশ কিছু হাদিসে তিনি ধর্মত্যাগের ভয়াবহতা ও পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর যুগেও সীমিত পরিসরে কিছু ধর্মদ্রোহী ও নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারের উদ্ভব ঘটেছিল।
মুসাইলামা কাজ্জাব ও আসওয়াদ আনসীর মতো ব্যক্তিরা নবুয়ত দাবি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। নবীজি (সা.) কোনো কোনো ক্ষেত্রে এদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করেছেন এবং যারা সরাসরি বিদ্রোহ ও কটূক্তিতে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
নবীযুগের ধর্মদ্রোহীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে জাহাশ। তিনি কুরাইশ বংশের সন্তান এবং নবীজির আপন ফুপাতো ভাই ছিলেন।
প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করে তিনি আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে মদ্যপান ও আভিজাত্যের মোহে পড়ে ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিষ্টান হয়ে যান এবং সেই অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া উরাইনা গোত্রের আটজন লোকের ঘটনাও ইসলামের ইতিহাসে বেশ আলোচিত। তারা মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে নবীজি (সা.) তাদের আরোগ্যের জন্য জাকাতের উটের চারণভূমিতে পাঠান। কিন্তু সুস্থ হয়েই তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দেয় এবং রাখালকে নৃশংসভাবে হত্যা করে উট লুট করে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ধরে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়।
আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারাহ। তিনি নবীজির ওহি লেখক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় মুরতাদ হয়ে মক্কায় পালিয়ে যান। মক্কা বিজয়ের সময় তাঁর রক্ত বৈধ ঘোষণা করা হলেও পরে তিনি হজরত উসমান (রা.)-এর সুপারিশে ক্ষমা পান। তাঁর জীবনের বিশেষত্ব হলো তিনি পুনরায় অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী জীবনে মিসর বিজয়ে সেনাপতি হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।
নবীজি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর যখন আরবের বিভিন্ন গোত্র জাকাত দিতে অস্বীকার করে এবং অনেক মিথ্যা নবীর আবির্ভাব ঘটে, তখন প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) সেই বৃহত্তর ‘রিদ্দার যুদ্ধ’ পরিচালনা ও সম্পন্ন করেন। মূলত নবীযুগের এই সীমিত ধর্মদ্রোহ ছিল ভবিষ্যৎ ফিতনা মোকাবিলার একটি পথনির্দেশনা। ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায় যে যারা ফিরে এসেছে তারা সম্মানের সাথে দ্বীনের খিদমত করেছেন আর যারা হঠকারিতা করেছেন তাদের পতন ছিল অনিবার্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন