অক্টোবর ১৮, ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
ঢাকার নাগরিক কোলাহলের মাঝে আজ যেন একখণ্ড কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া নেমে এসেছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল ‘অচিন পাখি’র সন্ধান আর ‘সোনার মানুষ’ হওয়ার আহ্বান। উপলক্ষ, মরমী সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৫তম তিরোধান দিবস। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় এই প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত হলো ‘লালন উৎসব ২০২৫’।
বিকেল থেকেই উদ্যানের উত্তর পাশে শুরু হয় ‘লালন মেলা’। ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, লোকবাদ্যযন্ত্র আর গ্রামীণ খাবারের ১৬টি স্টল ঘিরে জমে ওঠে দর্শনার্থীদের ভিড়। তবে মূল আকর্ষণ ছিল উদ্যানের মঞ্চকে ঘিরে, যেখানে জড়ো হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধু, বাউল, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। কেউ গাইছিলেন লালনের দেহতত্ত্বের গান, কেউবা ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন তাঁর প্রেম, মানবতা ও একত্ববাদের বার্তা।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই শুরু হয় মূল সাংগীতিক পর্ব। অনুষ্ঠান শুরুর আগে, সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি লালন শিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তার জীবন ও সংগীত নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর ফাহমিদা আহমেদ শিফা, পথিক নবি, আরুপ রাহি, দিনা মন্ডল, মুজিব পারদেশি এবং জনপ্রিয় ‘লালন ব্যান্ড’-এর মতো শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে হেমন্তের এই সন্ধ্যা।
কুষ্টিয়া থেকে আগত সাধু জালাল বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তবু আনন্দের বিষয়, লালনের বার্তা অবশেষে জাতীয়ভাবে উচ্চারিত হলো।” আরেক সাধু বুলবুল বলেন, “বিলম্বিত হলেও লালনের দর্শন এখন জাতীয় মর্যাদায় এসেছে, এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি।”
প্রায় দুই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও লালনের সহজ কিন্তু গভীর মানবতাবাদী দর্শন আজও বাঙালির আত্মজাগরণের পথে প্রধান অনুপ্রেরণা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই উৎসব যেন সেই দর্শনেরই এক মূর্ত প্রতীক হয়ে রইল, যা প্রমাণ করে—ভালোবাসা, সমতা ও আত্মচেতনার আবেদনে লালন শাহ আজও প্রাসঙ্গিক।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন