রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

‘বিচার যেন গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে’: জবি উপাচার্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২১, ২০২৫, ০৬:৪৮ পিএম

‘বিচার যেন গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে’: জবি উপাচার্য

ছবি - সংগৃহীত

সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের কান্না আর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে উঠেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। রোববার (১৯ অক্টোবর) দুর্বৃত্তদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া পরিসংখ্যান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জুবায়েদ হোসেনের স্মরণে মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে এক শোকসভার আয়োজন করা হয়।

এই সভাটি যেন জুবায়েদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের এক সম্মিলিত আহাজারিতে রূপ নেয়।শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম তার ছাত্রের প্রতি গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জুবায়েদ খুবই ভালো ছেলে ছিল। সে মাঝে মাঝে আমার কাছে আসতো, খুব বিনয়ী আচরণ করতো। এমন একটি ছেলের শত্রু থাকতে পারে, এটা আমাদের কল্পনার বাইরে।”

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “জোবায়েদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিচার যেন শুধু গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দ্রুত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।”শোকসভায় উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে। তাদের প্রতি যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। জোবায়েদের হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের সবার দাবি।”

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেন বলেন, “দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অপরিহার্য।” সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীন যোগ করেন, “শুধু গ্রেপ্তার নয়, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। প্রশাসনকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাতে হবে।”

সভায় জুবায়েদের বড় ভাই সৈকত হোসেন এবং তার সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুবায়েদের মেধা, মানবিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ চরিত্রের স্মৃতিচারণ করেন। তারা সকলেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবু সাইদ মো. রিপন রউফের সভাপতিত্বে এই শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

শোকসভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুবায়েদের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে উপাচার্যসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।