রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

পুরুষ না নারী, হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকিতে কারা বেশি?

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৮, ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

পুরুষ না নারী, হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকিতে কারা বেশি?

একসময় হার্ট ফেইলিওরকে শুধু বয়স্কদের রোগ মনে করা হলেও, এখনকার চিকিৎসকরা বলছেন, এই সমস্যা যেকোনো বয়সেই হতে পারে, এমনকি ঘুমের মধ্যেও। ভারতের খ্যাতনামা কার্ডিওলজিস্ট ডা. সুমন্থ চট্টোপাধ্যায় এই জটিল অবস্থাকে একটি ‘স্পেকট্রাম ডিজিজ’ বা বিস্তৃত রোগের ধরন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

হার্টের মূল কাজ হলো শরীরের প্রতিটি অঙ্গে রক্ত পাম্প করে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করা। যখন হার্ট শরীরের চাহিদা মেটাতে ঠিকভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখনই তাকে হার্ট ফেইলিওর বলা হয়।হার্টের চাপ সামাল না দিতে পারলে লক্ষণরক্ত ও অক্সিজেন কম পৌঁছালে লক্ষণরক্ত ফুসফুসে জমে যাওয়ামাথা ঝিমঝিম করাশ্বাসকষ্টকিডনির সমস্যাহাত-পা ফুলে যাওয়াশরীরে অবশভাবপেট ব্যথা বা ক্ষুধামন্দা

শ্রেণীবেশি ঝুঁকিপূর্ণ ধরনপ্রধান কারণপুরুষ (পাম্পিং ক্ষমতা কমে যাওয়া)উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, ধূমপান ও মদ্যপান।নারী (চাপ বেড়ে কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া)সাধারণত ৬০ বছরের পর বয়সজনিত কারণে হয়ে থাকে।পুরুষদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হার্টের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত করে পাম্পিং ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ায় তারা HFrEF এর ঝুঁকিতে বেশি থাকে।

ডা. সুমন্থ চট্টোপাধ্যায়ের পরামর্শ অনুযায়ী, হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট অ্যাটাক—দুটোর ক্ষেত্রেই প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করলে জীবন রক্ষা সম্ভব।

হার্ট সুস্থ রাখতে করণীয়:

  • নিয়মিত পরীক্ষা: নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন।

  • জীবনযাপন: ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।

  • পুষ্টি ও ওজন: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন ও পুষ্টিকর খাবার খান।

  • ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।

  • সতর্কতা: শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট বা ফোলা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সচেতনতা ও জীবনযাপনের অভ্যাসই হার্টকে সুস্থ রাখার মূল চাবিকাঠি।