নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১০:৪২ এএম
আমাদের রান্নাঘরে ব্যবহৃত লবণ ও চিনি—এই দুটি জনপ্রিয় উপাদানই খাবারের স্বাদ বাড়ালেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন এগুলো নীরবে বাড়িয়ে তুলতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি। উচ্চ ব্লাড প্রেসার, ধমনীর সংকোচন, প্রদাহ, স্থূলতা থেকে শুরু করে দীর্ঘমেয়াদী হার্ট ডিজিজ—সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে অতিরিক্ত লবণ ও চিনির ব্যবহার।
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন ওঠে, এই দুই সাধারণ উপাদানের মধ্যে হৃদরোগের জন্য বেশি ক্ষতিকর কোনটি?অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের বিপদ দেখা দেয়।
এর সবচেয়ে বড় প্রভাব হলো—ক্ষতিকর একধরনের চর্বি ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে কমে যায় 'ভালো' কোলেস্টেরল বা এইচডিএল (যা ধমনীর সুরক্ষা দেয়)।
এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, প্রদাহ বৃদ্ধি এবং ধমনীর ভেতর চর্বি জমে যাওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চর্বি জমে হার্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।অতিরিক্ত চিনি দেহে ফ্যাট জমার কারণ হয়, স্থূলতা বাড়ায় এবং নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি করে। এতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি চিনি-মেশানো পানীয় গ্রহণকারীদের হার্ট ডিজিজ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি।
অতিরিক্ত লবণ শরীরে অন্য ধরনের ক্ষতি করে। বেশি লবণ খেলে শরীরে পানির পরিমাণ বেড়ে যায়, ফলে রক্তনালির ভেতরে চাপ বৃদ্ধি পায়। এই বাড়তি চাপই উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ। আর হাই ব্লাড প্রেসার হলো হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম বড় ঝুঁকি।
দীর্ঘদিন ধরে বেশি পরিমাণ লবণ খেলে রক্তনালি শক্ত হয়ে যায়, ধমনীর দেয়ালের ক্ষতি হয় এবং হার্টকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলেই বাড়ে দীর্ঘমেয়াদী হৃদরোগের আশঙ্কা। ইউকে বায়ো ব্যাংক–এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ বা বিপাকীয় সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে এটা মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনি এবং লবণ উভয়ই অতিরিক্ত মাত্রায় হৃদরোগের জন্য সমান ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ কেউ চিনিকে বেশি ক্ষতিকর মনে করেন কারণ এটি পরোক্ষভাবে ট্রাইগ্লিসারাইড, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের মাধ্যমে হার্টের ক্ষতি করে। আবার যারা উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য লবণ বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণ করলে দুটোই শরীরের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি করে।
তাই হার্টকে সুস্থ রাখার সহজ উপায় হলো—খাবারের স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখা, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং বাড়ির রান্নায় চিনি-লবণের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখা।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন