রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো ভালো না খারাপ? জেনে নিন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৪, ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

শীতের রাতে মোজা পরে ঘুমানো ভালো না খারাপ? জেনে নিন

শীতের দাপট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেরই রাতে ঠিকমতো ঘুম আসতে চায় না, কারণ কম্বলের নিচেও পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে থাকে। এই সমস্যা এড়াতে অনেকেই পায়ে মোজা পরে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলেন।

কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, সাময়িক আরাম মিললেও ভুল নিয়মে মোজা পরে ঘুমানো শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে মোজা পরা উপকারী হতে পারে, তবে নিয়মিত বা ভুল মোজা ব্যবহারে ৫টি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।মোজা পরে ঘুমানোর ৫টি স্বাস্থ্যঝুঁকি:

১. রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত: অনেকেই মনে করেন মোজা পরলে রক্ত চলাচল ভালো হয়। কিন্তু মোজা যদি খুব টাইট বা ইলাস্টিকযুক্ত হয়, তবে তা উল্টো রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে। দীর্ঘ সময় টাইট মোজা পরে থাকলে শিরা-উপশিরায় চাপ পড়ে, যা পায়ে ব্যথার কারণ হতে পারে।

২. ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি: নাইলন বা সিনথেটিক কাপড়ের মোজা বাতাস চলাচলে বাধা দেয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ পায়ে ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের (Fungal Infection) ঝুঁকি বাড়ে। এতে পায়ে দুর্গন্ধ ও চুলকানি হতে পারে।

৩. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি: ঘুমের সময় শরীর প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে আনে। কিন্তু মোটা মোজা পরে ঘুমালে শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা গভীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।

৪. ঘুমের ব্যাঘাত: টাইট বা অস্বস্তিকর মোজা পরে ঘুমালে মাঝরাতে অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি অনিদ্রার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৫. স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন: অনেকেই আলসেমি করে দিনের বেলা ব্যবহার করা অপরিষ্কার মোজা পরেই ঘুমিয়ে পড়েন। এটি একেবারেই অস্বাস্থ্যকর এবং বিছানায় জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ।

তাহলে কী করবেন? বিশেষজ্ঞরা মোজা পরে ঘুমানোর ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিষেধ করছেন না, তবে কিছু শর্ত মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:অবশ্যই ঢিলেঢালা সুতির মোজা ব্যবহার করতে হবে, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে।ঘুমানোর জন্য আলাদা পরিষ্কার ও ধোয়া মোজা ব্যবহার করতে হবে।খুব টাইট ইলাস্টিকের মোজা পরিহার করতে হবে।শীতের রাতে আরামের খোঁজ করতে গিয়ে যেন বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয়, সেদিকে সজাগ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।