জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
সকালে এক কাপ গরম দুধ চা না হলে অনেকের দিনই শুরু হয় না। আড্ডা কিংবা কাজের ফাঁকে ক্লান্তি দূর করতে দুধ চায়ের জুড়ি মেলা ভার। তবে এই প্রিয় পানীয়টিই কি আপনার অজান্তে শরীরের ক্ষতি করছে? সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদরা দুধ চা পানের অভ্যাস নিয়ে কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
চায়ে থাকে 'ক্যাটেচিন' নামক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিন্তু যখনই চায়ের সঙ্গে দুধ মেশানো হয়, দুধের 'কেজিন' প্রোটিন ক্যাটেচিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
এর ফলে চা তার মূল গুণাগুণ হারিয়ে ফেলে এবং পানীয়টি আরও বেশি অ্যাসিডিক হয়ে যায়।দুধ চা পানে অ্যাসিডিটি ও পেট ফাঁপার সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। যারা খালি পেটে দুধ চা খান, তাদের দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে।
২. পুষ্টিহীন ক্যালরি: বিশেষ করে চিনি বা কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে তৈরি দুধ চায়ে প্রচুর ক্যালরি থাকে, যা দ্রুত ওজন বৃদ্ধি করে। ৩. ত্বকের সমস্যা: পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত দুধ চা পানে ত্বকে ব্রণ ও ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ৪. অনিদ্রা ও উদ্বেগ: চায়ের ক্যাফেইন এবং দুধের মিশ্রণ অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।পুষ্টিবিদ প্রিয়ার মতে, দুধ চা পুরোপুরি বিষ নয়, তবে এটি পানের পরিমাণে নিয়ন্ত্রণ আনা জরুরি। সপ্তাহে ২-৩ দিন এক কাপ করে দুধ চা পান করলে সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যারা দিনে ৩-৪ কাপ পান করেন, তাদের জন্য এটি বিপদজনক।
বিকল্প কী হতে পারে? সুস্থ থাকতে দুধ চায়ের বদলে আদা চা, লেবু চা বা ব্ল্যাক টি খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। এছাড়া ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা গ্রিন টি বেছে নিতে পারেন। মনে রাখবেন, শরীর চা থেকে তখনই উপকার পাবে যখন তা হবে দুধ ও চিনি ছাড়া।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন